আপনার দেওয়া সর্বশেষ তথ্য, এনসিপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে 'বাংলাদেশ প্রতিদিন' স্টাইলে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন নিচে তৈরি করে দেওয়া হলো।
জামায়াতের সঙ্গে জোট ‘আত্মঘাতী’: এনসিপিতে চরম বিদ্রোহ, ৩ শ আসনে একক লড়াইয়ের ডাক
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ময়দানে নতুন মেরুকরণ আর আদর্শিক সংঘাত এখন তুঙ্গে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়’ অভিহিত করে দলটির সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতায় না জড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তার মতে, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী বা আদর্শিক সমঝোতায় গেলে এনসিপিকে ভবিষ্যতে ‘কঠিন মূল্য’ চুকাতে হবে। এই মন্তব্য ঘিরে এনসিপির অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও বিভক্তি এখন রাজপথে প্রকাশ্য রূপ নিল।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সামান্তা শারমিন তার দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ বা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছে। জামায়াতের দর্শন ও পরিকল্পনা এনসিপির এই মূলনীতির সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত নিম্নকক্ষে পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) ব্যবস্থার আওয়াজ তুলে মূলত সংস্কার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা লিপ্ত হয়েছে। তিনি আরও জানান, জুলাই পদযাত্রার পর এনসিপির পক্ষ থেকে ৩০০ আসনেই একক প্রার্থী দেওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা থেকে সরে গিয়ে জামায়াত বা বিএনপির সাথে জোট করা হবে আত্মঘাতী। তার এই অবস্থানকে ঘিরে দলটির কেন্দ্রীয় অন্তত ৩০ জন নেতা ইতিমধ্যে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট গঠন এবং আদর্শিক সংঘাতের ইতিহাস দীর্ঘ সাত দশকের। ১৯৫০-এর দশকে যখন এই ভূখণ্ডে স্বাধিকার আন্দোলনের বীজ বপন করা হচ্ছিল, তখনও জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক ছিল। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, তার বিপরীতে জামায়াতের অবস্থান ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়।
১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সাময়িকভাবে সব দল এক হলেও ১৯৯১ ও ২০০১-এর নির্বাচনে জোটের রাজনীতি দেশের মেরুকরণকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায়। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের টানা শাসনের পর ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব নতুন এক ‘রাজনৈতিক কাঠামোর’ স্বপ্ন দেখায়। ১৯৫০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে অধিকার আদায়ের লড়াই, ২০২৫ সালে এসে তা এনসিপির মতো নতুন শক্তির হাত ধরে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তবে জামায়াতের সাথে জোটের প্রশ্নে বর্তমান এই দ্বন্দ্ব প্রমাণ করে যে, ১৯৫০-এর সেই আদর্শিক লড়াই ২০২৫-এ এসেও প্রাসঙ্গিক।
এনসিপির এই ঘরোয়া কোন্দলের মধ্যেই দেশের রাজনীতিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ চলছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে তার নির্বাচনের প্রস্তুতি বিএনপি শিবিরে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। অন্যদিকে, ইনকিলাব মঞ্চ আজ আট বিভাগীয় শহরে সর্বাত্মক অবরোধ পালন করছে। দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে জুবায়ের রহমান চৌধুরীর শপথ গ্রহণ বিচার বিভাগে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
আন্তর্জাতিকভাবেও পরিস্থিতি উত্তাল। মালয়েশিয়ায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের আটক হওয়া এবং গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়ানোর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসব ইস্যুও প্রভাব ফেলছে। প্রতিবেশী মিয়ানমারে জান্তার অধীনে বিতর্কিত ভোটগ্রহণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
১৯৫০-এর ভাষা আন্দোলন থেকে ২০২৫-এর রাষ্ট্র সংস্কার—বাঙালির রাজনৈতিক বিবর্তন আজ এক চরম সন্ধিক্ষণে। সামান্তা শারমিনের এই হুঁশিয়ারি এবং এনসিপির অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ স্পষ্ট করে দেয় যে, নতুন প্রজন্মের কাছে আদর্শিক আপস এখন আর কোনো বিকল্প নয়। ২০২৫-এর নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং ১৯৫০ থেকে চলে আসা শোষণের রাজনীতি বনাম ইনসাফের লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ১. এনসিপি নেত্রী সামান্তা শারমিনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. কালবেলা অনলাইন ও সমসাময়িক সংবাদ আর্কাইভ। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন: ১৯৫০-২০২৫ (গুগল এনালাইসিস ও ঐতিহাসিক রেফারেন্স)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |