আট বিভাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবরোধ ও প্রধান বিচারপতির শপথ: ২০২৫-এর উত্তাল রাজনীতি ও নতুন সমীকরণ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশ এখন একাধারে সংস্কারের আশা এবং আন্দোলনের উত্তাপে মেঘাচ্ছন্ন। একদিকে দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর শপথ গ্রহণ বিচার বিভাগে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে, অন্যদিকে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও 'ভারতীয় প্রভাবমুক্ত' বাংলাদেশের দাবিতে আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) আট বিভাগীয় শহরে একযোগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে ইনকিলাব মঞ্চ। এই দুই বিপরীতমুখী মেরুকরণ ২০২৫ সালের নতুন বাংলাদেশের এক জটিল প্রতিচ্ছবি।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং ভারতীয় প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের শনিবার রাতে শাহবাগ থেকে এই অবরোধের ঘোষণা দেন। রোববার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। জাবের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হাদি হত্যার বিচারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ানো হবে। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, কোনো প্ররোচনা বা চাপে এই আন্দোলন দমানো যাবে না এবং ইনসাফ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।
অবরোধের এই উত্তাপের মধ্যেই আজ সকাল ১০টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিয়েছেন নতুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পর্যন্ত বাংলাদেশের বিচার বিভাগ বহু রাজনৈতিক সংকটের সাক্ষী। ২০২৫ সালের এই সময়ে বিচারপতি জুবায়েরের নিয়োগকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
১৭ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনৈতিক ও মানবিক কার্যক্রমে ব্যস্ত। শনিবার রাতে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। একই দিনে তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তিকারী শহিদুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে বিএনপি যে রাজনৈতিক মহানুভবতা দেখিয়েছে, তা বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন। ১৯৫০-এর সেই গণতান্ত্রিক সংগ্রামের লক্ষ্যই ছিল এমন একটি সহনশীল সমাজ গঠন করা।
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও বেশ সংবেদনশীল। মালয়েশিয়ায় এ বছর অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানে রেকর্ড ১১ হাজার বাংলাদেশি আটক হয়েছেন, যা দেশের অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান কাঠামোর দুর্বলতা তুলে ধরেছে। অন্যদিকে গাজা উপত্যকায় চতুর্থ দফার নিম্নচাপে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু ও দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এর মাঝেই মিয়ানমারে সামরিক জান্তার অধীনে আজ বিতর্কিত ও একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের আজকের এই রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন মূলত ১৯৫০-এর দশকের স্বাধিকার আন্দোলনেরই বিবর্তিত রূপ। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন ছিল যেমন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির লড়াই, ২০২৫-এর ইনকিলাব মঞ্চের দাবিগুলোও সার্বভৌমত্ব ও ইনসাফ কায়েমের লড়াই হিসেবে রাজপথে দেখা যাচ্ছে।
১৯৭০-এর নির্বাচনে জয়ী পক্ষকে ক্ষমতা না দিয়ে যেমন পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ষড়যন্ত্র করেছিল, ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালে রাষ্ট্র সংস্কারের এই সন্ধিক্ষণ যেন সেই পুরনো শৃঙ্খল ভাঙার চূড়ান্ত চেষ্টা। এনসিপি-জামায়াত দ্বন্দ্ব বা ইনকিলাব মঞ্চের কঠোর অবস্থান—সবই মূলত ১৯৫০ সাল থেকে শুরু হওয়া সেই অসম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের এক নতুন সংঘাত।
তথ্যসূত্র: ১. ইনকিলাব মঞ্চের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের প্রেস ব্রিফিং (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. সুপ্রিমকোর্টের গণসংযোগ শাখা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং। ৩. মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগ, আল জাজিরা ও এএফপি নিউজ আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |