| বঙ্গাব্দ

জামায়াতের সঙ্গে জোট নয়: এনসিপি নেত্রী সামান্তা শারমিনের বিস্ফোরক মন্তব্য

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-12-2025 ইং
  • 4348774 বার পঠিত
জামায়াতের সঙ্গে জোট নয়: এনসিপি নেত্রী সামান্তা শারমিনের বিস্ফোরক মন্তব্য
ছবির ক্যাপশন: সামান্তা শারমিন

জামায়াত ‘নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়’: রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে এনসিপি নেত্রী সামান্তার বিস্ফোরক পোস্ট

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মোড় নিয়েছে জোট ও আদর্শিক লড়াই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়’ অভিহিত করে দলটির সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা বা সহযোগিতায় না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তার মতে, জামায়াতের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় গেলে এনসিপিকে ভবিষ্যতে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।

সামান্তা শারমিনের অবস্থান ও জামায়াত-এনসিপি দ্বন্দ্ব

রোববার (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সামান্তা শারমিন এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ‘জুলাই স্পিরিট’ ও দেশ নিয়ে একমত হওয়া দলগুলোর সঙ্গে জোট করার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা এনসিপির আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সামান্তা শারমিন তার পোস্টে স্পষ্ট করেন যে, বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ বা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছে। তার অভিযোগ, জামায়াত নিম্নকক্ষে পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) ব্যবস্থার দাবি তুলে সংস্কার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা লিপ্ত হয়েছিল। এই আদর্শিক পার্থক্যের কারণেই এনসিপি ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫০ থেকে ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মীয় আদর্শভিত্তিক দল বনাম সেক্যুলার বা নাগরিক অধিকারপন্থী দলগুলোর সংঘাত নতুন কিছু নয়। ১৯৫০-এর দশকে যখন পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধিকার আন্দোলনের বীজ বপন করা হচ্ছিল, তখনও জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক ছিল। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের পুনর্বাসন বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সব দল এক হলেও নির্বাচনের আগে জোট গঠনের সমীকরণ বারবার বদলেছে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে মেরুকরণ চরম আকার ধারণ করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সব দল রাজপথে থাকলেও ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপট বলছে, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে দলগুলোর মধ্যে গভীর ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এনসিপি নেত্রী সামান্তা শারমিনের বক্তব্য সেই ফাটলকেই প্রকাশ্যে নিয়ে এলো।

বিশ্লেষণ: নতুন মেরুকরণ ও একক নির্বাচনের পথে এনসিপি

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৯৫০ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোটবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকলেও এখন ছোট দলগুলো নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে চাইছে। সামান্তা শারমিন স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তার এই অবস্থান বিএনপি বা জামায়াত কারো পক্ষেই নয়, বরং এনসিপির মৌলিক সাংগঠনিক পলিসি রক্ষা করার জন্য। তার মতে, বিএনপি বা জামায়াত– যেকোনোটির সঙ্গে জোট করা মানেই এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া।

এদিকে, গত শনিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তিকারীর মুক্তি চেয়ে বিএনপি যে উদারতা দেখিয়েছে, তার বিপরীতে এনসিপি ও জামায়াতের এই আদর্শিক যুদ্ধ ২০২৫ সালের আগামী নির্বাচনকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে।


তথ্যসূত্র: ১. সামান্তা শারমিনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় প্রচার সেল। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন: ১৯৫০-২০২৫ (গবেষণা ও গুগল এনালাইসিস)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency