আস্থা ও ঐতিহ্যের জয়: ২০২৫ সালের ‘সেরা ব্র্যান্ড’ সম্মাননা পেল প্রাণ ম্যাঙ্গো ফ্রুট ড্রিংক
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের জুস বাজারে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য ও ভোক্তার আস্থা ধরে রাখা ‘প্রাণ ম্যাঙ্গো ফ্রুট ড্রিংক’ ফের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ২০২৫ সালে জুস ক্যাটাগরিতে ‘বেস্ট ব্র্যান্ড ইন বাংলাদেশ’ সম্মাননা অর্জন করেছে ব্র্যান্ডটি। রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সাফল্যের পেছনের কারিগর ও পুরস্কার গ্রহণ বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত ১৭তম বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রাণের এই অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি তুলে দেওয়া হয়। প্রাণ মার্কেটিং টিমের পক্ষ থেকে পদক গ্রহণ করেন সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আলী হাসান আলম, জেনারেল ম্যানেজার শেখ সুবায়েল খায়ের, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মাহামুদুল হাসান জিসা, সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার মিরাজ সরকার এবং ডেপুটি ব্র্যান্ড ম্যানেজার ওমর বিন জুবায়ের।
দেশের আটটি বিভাগের শহর ও গ্রামীণ এলাকার ১২ হাজার ৪০০ জন ভোক্তার ওপর পরিচালিত এনসার্চ লিমিটেডের এক বিস্তারিত জরিপের ভিত্তিতে এই শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। সচেতনতা, পছন্দ ও ব্যবহারের মতো সূচকগুলোর বিশ্লেষণে প্রাণ ম্যাঙ্গো ফ্রুট ড্রিংক তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল।
প্রাণ ম্যাঙ্গো জুসের এই বর্তমান বিশ্বমানের ব্র্যান্ড হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের দীর্ঘ বিবর্তন।
১৯৫০-এর দশক: দেশভাগের পর ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে কৃষিভিত্তিক শিল্পের ধারণা শুরু হয়। তবে তখন মূলত পাট ও চিনি শিল্পের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। ফলমূল প্রক্রিয়াজাতকরণের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ তখন ছিল না।
১৯৭১ ও স্বাধীন বাংলাদেশ: ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছিল প্রধান লক্ষ্য। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আশির দশকের শুরুর দিকে আমজাদ খান চৌধুরীর হাত ধরে 'প্রাণ' তার পথচলা শুরু করে, যা মূলত দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
১৯৯০-এর দশক (প্রাণের জুস বিপ্লব): ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো কাঁচের বোতলে 'প্রাণ ম্যাঙ্গো জুস' বাজারে আসে। ১৯৯৯ সালে টেট্রা-প্যাকে জুস নিয়ে এসে প্রাণ বাংলাদেশের জুস বাজারে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটায়, যা সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে স্বাস্থ্যকর পানীয় পৌঁছে দেয়।
২০১৪-২০২৪ (আধুনিকায়ন): ২০১৪ সালে পেট-বোতল প্রবর্তনের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি তরুণ প্রজন্মের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের মাঝেও প্রাণ তার উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রেখে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখেছে।
২০২৫-এর বর্তমান অবস্থান: ২০২৫ সালের এই ডিসেম্বর মাসের শেষ প্রান্তে এসে ‘বেস্ট ব্র্যান্ড’ পদক প্রাপ্তি প্রমাণ করে যে, কেবল ব্যবসা নয়—বরং সময়োপযোগী উদ্ভাবন ও ভোক্তার চাহিদাই প্রাণের দীর্ঘমেয়াদী সফলতার মূলমন্ত্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জুস বাজারে বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতা বিরাজমান। নতুন নতুন দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ড বাজারে এলেও প্রাণের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পাল্প সংগ্রহ করে মান নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াটিই তাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে রেখেছে। বর্তমানে প্রাণ বিশ্বের ১৪৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগকে সম্মানিত করছে।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম (BBF) অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি, ২০২৫। ২. প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ কর্পোরেট আর্কাইভ ও যুগান্তর অনলাইন। ৩. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৃষি বিকাশের ইতিহাস: উইকিপিডিয়া।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |