রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া ‘রক্তের বন্ধন’: পুতিনকে কিমের নববর্ষের বার্তা ও সাত দশকের ভূ-রাজনীতি
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশ্ব রাজনীতির উত্তাল প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পাঠানো এক বিশেষ নববর্ষের বার্তায় দুই দেশের এই সম্পর্ককে ‘রক্ত, জীবন ও মৃত্যুর বন্ধন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-র বরাতে জানা যায়, ইউক্রেন যুদ্ধের একই পরিখায় (ট্রেঞ্চ) দুই দেশের সেনাদের রক্ত ঝরানোর মধ্য দিয়ে এই জোট এখন ‘অজেয়’ শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
কিম জং উন তাঁর বার্তায় ২০২৫ সালকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য একটি ‘অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বছর’ বলে উল্লেখ করেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে সরাসরি সেনা মোতায়েন করার বিষয়টি চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে পিয়ংইয়ং। গোয়েন্দা তথ্যমতে, প্রায় ১৫ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করছে। বিশেষ করে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে মাইন পরিষ্কার ও পুনর্দখল অভিযানে অংশ নিয়ে উত্তর কোরিয়ার ৯ জন ইঞ্জিনিয়ারিং সেনা নিহত হওয়ার খবরটিও কিম জং উন নিশ্চিত করেছেন।
নববর্ষের এই বার্তার আগের দিনই কিম তাঁর দেশের কর্মকর্তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানোর নির্দেশ দেন। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া এই অস্ত্রের কার্যকারিতা ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা করে নিচ্ছে, যা প্রকারান্তরে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) ও উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক সখ্যতার শেকড় লুকিয়ে আছে গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে।
১৯৫০-এর দশক ও কোরিয়া যুদ্ধ: ১৯৪৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় কিম ইল সাংয়ের নেতৃত্বে উত্তর কোরিয়া রাষ্ট্রটি গঠিত হয়। ১৯৫০ সালে শুরু হওয়া কোরিয়া যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন সরাসরি বিমান বাহিনী ও অস্ত্র দিয়ে উত্তর কোরিয়াকে সমর্থন দিয়েছিল। ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতির পর থেকে পিয়ংইয়ংয়ের প্রধান নিরাপত্তা দাতা ছিল মস্কো।
১৯৬০-১৯৯০ (শীতল যুদ্ধকাল): ১৯৬১ সালে দুই দেশ প্রথম ‘বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। তবে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলতসিনের আমলে এই সম্পর্কে ভাটা পড়ে এবং রাশিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে।
২০০০ থেকে ২০২৪ (পুতিন ও কিম যুগ): ২০০০ সালে ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতায় আসার পর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের উদ্যোগ নেন। তবে ২০২৪ সালের জুনে পুতিনের পিয়ংইয়ং সফরের সময় স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি’ সম্পর্ককে এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় নিয়ে যায়, যেখানে এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশ সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
২০২৫-এর বাস্তবতা: ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া রাশিয়া এখন উত্তর কোরিয়ার অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল। বিপরীতে রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি, জ্বালানি ও খাদ্য সহায়তায় উত্তর কোরিয়া তাদের ভেঙে পড়া অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি পুনরুদ্ধার করছে।
কিম-পুতিন বার্তার সমান্তরালে এশিয়ার রাজনীতিতে আরও একটি বড় ঘটনা ঘটেছে। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ওয়ানএমডিবি (1MDB) কেলেঙ্কারির দ্বিতীয় বড় বিচারে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও বিশাল অঙ্কের জরিমানা করেছে কুয়ালালামপুর হাইকোর্ট। ২৬ ডিসেম্বর ঘোষিত এই রায়ে তাঁকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
সূত্র: ১. এনডিটিভি ও আল-জাজিরা (অনলাইন সংস্করণ), ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫। ২. রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ (KCNA) ও রয়টার্স। ৩. উত্তর কোরিয়া-রাশিয়া সম্পর্ক বিষয়ক ঐতিহাসিক উইকিপিডিয়া ও এনসিএনকে (NCNK) আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |