| বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তলব: হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্যে উত্তপ্ত ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 17-12-2025 ইং
  • 2861197 বার পঠিত
দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তলব: হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্যে উত্তপ্ত ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক
ছবির ক্যাপশন: দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তলব

দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তলব: হাসনাতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ মন্তব্য ও মোদির কুশপুত্তলিকা দাহ নিয়ে উত্তপ্ত ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক উত্তেজনা এবার নতুন মাত্রা লাভ করেছে। গত সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলবের দুই দিনের মাথায় বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাকে তলব করেছে ভারত। বাংলাদেশ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে দেওয়া ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য এবং ভারতীয় হাইকমিশনে হুমকির প্রতিবাদে এই আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে মোদি সরকার।

তলবের নেপথ্যে হাসনাতের সেই মন্তব্য

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার হাসনাত আবদুল্লাহর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে। ঢাকায় এক সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ সতর্ক করে বলেছিলেন, বাংলাদেশ চাইলে ‘ভারতবিরোধী শক্তিকে’ আশ্রয় দিতে পারে এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোকে দিল্লির মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা রাখে। এ ছাড়া বিক্ষোভ চলাকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর ঘটনাকেও ভারত অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে দেখছে।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অম্ল-মধুর ইতিহাস

বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে। ১৯৫০-এর দশক থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই সম্পর্ক অনেক চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়েছে।

  • ১৯৫০-১৯৭০ (সংগ্রামের সময়): ১৯৫০-এর দশকে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ভারতের জনগণের নৈতিক সমর্থন ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে এক ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ভিত্তি স্থাপন করে। তৎকালীন রাজনৈতিক নেতারা বলেছিলেন, "আমাদের দুই দেশের বন্ধন রক্ত দিয়ে লেখা।"

  • নব্বইয়ের দশক: ১৯৯০-এর পর গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিসহ নানা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে অম্ল-মধুর সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল।

  • ২০২৪-২০২৫ (পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট): ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দিল্লির সাথে ঢাকার সম্পর্কের সমীকরণ বদলে গেছে। ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘ভারতবিরোধী’ বক্তব্য এবং দিল্লির ‘আগ্রাসন’ নিয়ে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে এই উত্তেজনা দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষণ ও প্রভাব

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভারতবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য এবং দিল্লিতে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমকি দেওয়া আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। অন্যদিকে, ঢাকার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনড় অবস্থানই এই তলবের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে কাজ করছে।


বিশ্লেষণ: ১৯৫০-এর দশকে যে আঞ্চলিক রাজনীতি শুরু হয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে তা এক জটিল সমীকরণে দাঁড়িয়েছে। হাসনাত আবদুল্লাহর ‘সেভেন সিস্টার্স’ সংক্রান্ত বক্তব্য এবং দিল্লির তলব—এই দুই ঘটনাই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন একটি ট্রানজিশন পিরিয়ডের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এই ধরণের কূটনৈতিক টানাপোড়েন দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে ছাত্র-নেতৃত্বের মাধ্যমে আসা বর্তমান রাজনৈতিক শক্তি দিল্লির পুরোনো ‘প্রভাব’ থেকে বেরিয়ে এক নতুন স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি তৈরিতে সচেষ্ট।

সূত্র: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) বিবৃতি, বাংলাদেশ হাইকমিশন দিল্লি, যুগান্তর ডিজিটাল ও সমসাময়িক কূটনৈতিক আর্কাইভ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency