নিচে আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সমন্বয় করে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ শৈলীতে একটি পূর্ণাঙ্গ সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করে দেওয়া হলো।
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাই-আগস্টে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত ৬টি হত্যাকাণ্ড, উসকানি ও ষড়যন্ত্রসহ ৮টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রমে নতুন মোড় নিয়েছে। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু তার বিচারকার্য টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের (লাইভ টেলিকাস্ট) জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তার আইনজীবীর মাধ্যমে এই আবেদন করা হয়।
বুধবার পঞ্চম দিনের মতো ইনুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান করেন কাশিমপুর কারাগার-২ এর সাবেক ডেপুটি জেলার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি এই মামলার জব্দ তালিকার ৫ নম্বর সাক্ষী। এর আগে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের উপপরিদর্শক শাহেদ জোবায়ের লরেন্সের জবানবন্দি শেষ করে তাকে জেরা করেন ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। সকালে কড়া নিরাপত্তায় হাসানুল হক ইনুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং তার উপস্থিতিতেই এসব সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও ফারুক আহাম্মদ।
হাসানুল হক ইনুর রাজনৈতিক জীবন এবং বর্তমান বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর আলোকপাত করলে বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ এক পরিক্রমা ফুটে ওঠে।
১৯৫০-১৯৭১ (ছাত্র রাজনীতির গোড়াপত্তন): ১৯৫০-এর দশকে যে রাজনৈতিক চেতনার জন্ম হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় হাসানুল হক ইনু ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে পরবর্তী সময়ে জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) গঠন এবং স্বাধীনতাত্ত্বর বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নানা বিতর্ক ও আলোচনা আজও বিদ্যমান।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান: ১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ইনু ও তার দল বামপন্থী জোটের অংশ হিসেবে সক্রিয় ছিল। সে সময়কার স্লোগান ছিল, "গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক।"
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৫-এর ট্রাইব্যুনাল: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ইনুর বিরুদ্ধে উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে কুষ্টিয়ায় ৬ জন ছাত্র নিহতের ঘটনায় তাকে হুকুমের আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এসে সেই ঘটনার বিচারিক কার্যক্রম এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী আদালতে বলেন, "স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দেশবাসীকে প্রকৃত সত্য জানানোর জন্য এই বিচার প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা প্রয়োজন।" অন্যদিকে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "আইনের সুনির্দিষ্ট কাঠামো মেনেই বিচার কাজ চলছে এবং সাক্ষীদের তথ্য ও ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।"
বিশ্লেষণ: ১৯৫০-এর দশকে যে আদর্শিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এ দেশের রাজনীতি শুরু হয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে তা এক চূড়ান্ত বিচারের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিচার হওয়াকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। হাসানুল হক ইনুর মতো একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এবং তার বিচারের সরাসরি সম্প্রচারের দাবি বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হতে পারে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) রেকর্ডস, যুগান্তর ডিজিটাল, সিআইডি ফরেনসিক ল্যাব রিপোর্ট এবং বিডিএস নিউজ আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |