প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর, ২০২৫) রাত ৯টায় টেলিফোনে হাদির ভাই ওমর বিন হাদির সঙ্গে কথা বলে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস হাদির ভাইকে জানান, ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় উপদেষ্টা পরিষদ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও ব্যথিত। এই জঘন্য হামলার প্রেক্ষিতে তিনি জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছেন:
"আমি কয়েকজন উপদেষ্টাসহ পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছি। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করতে বৈঠক থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্পষ্ট বার্তা দিল যে, তফসিল পরবর্তী সময়ে প্রার্থীদের নিরাপত্তাহীনতাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রধান উপদেষ্টা হাদির পরিবারের কাছে তাঁর চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন:
"হাদির চিকিৎসার সব ব্যয় সরকার বহন করবে। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দেশে-বিদেশে যেখানে প্রয়োজন হয়, সেখানে সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে সরকার।"
প্রধান উপদেষ্টা হাদিকে "আমাদের সবার অতি আপন ও স্নেহের মানুষ" হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং প্রত্যাশা করেন যে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে সবার মাঝে ফিরে আসবেন।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বিজয়নগর কালভার্ট রোড এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালানোর প্রস্তুতিকালে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে হাদি আহত হন।
হাসপাতালে ভর্তি: গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে তাঁকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসা: আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দিতে হয় এবং দ্রুত লাইফ সাপোর্ট দিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়।
আঘাতের ধরন: ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, হাদির মাথার ভেতরে গুলি থাকার পাশাপাশি কানের আশেপাশেও গুলির আঘাত রয়েছে।
রাজনৈতিক সহিংসতা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি দুঃখজনক দিক। ১৯৫০ সালের দশক থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক ভিন্ন মত দমনের চেষ্টা বহুবার দেখা গেছে।
জুলাই বিপ্লব (২০২৪): ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রফেসর ইউনূসের এই দ্রুত হস্তক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে গঠিত হয়েছিল। নির্বাচনের আগে একজন প্রার্থীর ওপর এমন হামলা সেই অঙ্গীকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। প্রফেসর ইউনূসের দ্রুত পদক্ষেপ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের আন্তরিকতার প্রতিফলন। এর আগে রাশেদ খান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারী গ্রেফতার না হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি তুলেছিলেন (১২ ডিসেম্বর, ২০২৫)। প্রধান উপদেষ্টার এই পদক্ষেপ সেই আলটিমেটামের প্রতিক্রিয়ায় সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শরিফ ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদির টেলিফোন আলাপ (১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, রাত ৯টা)।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদের বক্তব্য।
শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন ও এর উদ্দেশ্য সম্পর্কিত তথ্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |