প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রথম ধাপে ১২৫টি আসনে তাদের মনোনীত প্রাথমিক প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করেছে। দলের প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিশ্চিত করেছেন, বাকি ফাঁকা আসনগুলো জোটের অংশীদার, দলীয় নেতা এবং বিশেষভাবে বিএনপি ও জামায়াত-ই-ইসলামীর আগ্রহী বিদ্রোহী প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর, ২০২৫) সকালে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "প্রথম ধাপে আমরা ১২৫ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিচ্ছি।" প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এনসিপি সংস্কারপন্থী বিদ্রোহীদের মনোনয়ন দিতে প্রস্তুত। এই নীতিটিই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, "দ্বিতীয় ধাপে বিএনপির যারা বিদ্রোহী কিন্তু সংস্কারের পক্ষে, তাদেরকে মনোনয়ন দেব। জামায়াতের যারা বিদ্রোহী, তাদেরকেও মনোনয়ন দেব।"
এনসিপির এই নীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—প্রার্থীদের রাজনৈতিক সংস্কার সমর্থন করতে হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। পাটওয়ারী আরও বলেন, "তাছাড়া যারা টাকার কাছে হেরে গেছে কিন্তু জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ কানেকশন আছে, সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে চান, তাদের জন্য এনসিপির দরজা খোলা আছে।"
অন্য দলের বিদ্রোহীদের কতজন যোগাযোগ করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, "সংখ্যাটা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে অনেকেই যোগাযোগ করছেন। দেখেন না মাঠে আগুন জ্বলা বন্ধ হয়েছে মানে যোগাযোগ শুরু করেছে।"
অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং মাহফুজ আহমেদ এনসিপির প্রার্থী হবেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের বিষয়ে তিনি সরাসরি উত্তর দেননি। এই বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "তারা এখনো পদত্যাগ করেনি। পদত্যাগ করলে এর উত্তর দেওয়া যাবে।"
এই মন্তব্যের পর আজ দুপুরেই (১০ ডিসেম্বর, ২০২৫) স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন, যেখানে তার পদত্যাগের ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারীর এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, দুই ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগের পরই এনসিপি তাদের প্রার্থীতা নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে।
বাংলাদেশের নির্বাচনি রাজনীতিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর উত্থান নতুন নয়। ২০০০-পরবর্তী নির্বাচনগুলোতেও প্রধান দলগুলোর অসন্তুষ্ট বা বঞ্চিত প্রার্থীরা স্বতন্ত্র কিংবা বিকল্প দলের ব্যানারে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত এনসিপি কর্তৃক বিএনপি ও জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রকাশ্যে মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণাটি কৌশলগত কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এনসিপির এই পদক্ষেপ মূলত দুটি লক্ষ্য পূরণ করবে:
সংস্কারের এজেন্ডা শক্তিশালী করা: সংস্কারের পক্ষে থাকা নেতাদের টেনে এনে তারা জনগণের কাছে নিজেদের ভাবমূর্তি মজবুত করতে চাইছে।
প্রতিদ্বন্দ্বীতার তীব্রতা বৃদ্ধি: প্রধান দলগুলোর অসন্তুষ্ট নেতাদের কাজে লাগিয়ে নির্বাচনি মাঠে নতুন শক্তি তৈরি করা।
আজ সকালে এনসিপি-এর এই ঘোষণার পর অন্যান্য যে রাজনৈতিক ঘটনাগুলো ঘটেছে, তাতে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও মেরুকরণ আরও স্পষ্ট:
দুপুর ২:২৬: বিএনপি-জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থীদের জন্য এনসিপির দরজা খোলা—নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়।
দুপুর ৩:২৯: আপিল বিভাগের রায়ে বাগেরহাটে চারটি আসন পুনর্বহাল হয়, গাজীপুর-৬ আসনটি বাদ পড়ে।
এই ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দেয় যে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রেস কনফারেন্স (১০ ডিসেম্বর, ২০২৫)।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের প্রকাশিত প্রার্থী তালিকা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |