| বঙ্গাব্দ

বাগেরহাট ৪ আসন বহাল: ইসির গেজেট অবৈধ ঘোষণা বহাল রাখলো সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-12-2025 ইং
  • 4645374 বার পঠিত
বাগেরহাট ৪ আসন বহাল: ইসির গেজেট অবৈধ ঘোষণা বহাল রাখলো সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগ
ছবির ক্যাপশন: সুপ্রিম কোর্ট

জনগণের দাবির ঐতিহাসিক জয়: বাগেরহাটে চার আসন পুনর্বহাল, ইসির গেজেট অবৈধ ঘোষণা বহাল রাখলো আপিল বিভাগ (১৯৬৯-২০২৫)

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আপিল বিভাগের চূড়ান্ত আদেশ: বহাল থাকলো বাগেরহাটের চারটি আসন, বাদ পড়লো গাজীপুর-৬

ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বাগেরহাটের সংসদীয় আসন সংখ্যা চারটি বহাল রাখলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাগেরহাটে চারটি আসন থেকে কমিয়ে তিনটি করা এবং গাজীপুরে একটি আসন বাড়িয়ে গাজীপুর-৬ গঠন করার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেটটি চূড়ান্তভাবে বাতিল হলো।

আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর, ২০২৫) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের করা লিভ টু আপিলটি খারিজ করে দেন। এই আদেশের ফলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন ও আইনি লড়াই শেষে বাগেরহাটবাসীর জয় হলো, অন্যদিকে গাজীপুর-৬ আসনটি আর বহাল থাকছে না।

আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। ইসির পাশাপাশি যারা আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন, তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন। রিটের পক্ষে যারা মামলাটি সফলভাবে পরিচালনা করেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মুহাম্মদ জাকির হোসেন।

১৯৬৯ থেকে ২০২৫: ঐতিহাসিক ৪ আসনের আইনি বিজয়

বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী ১৯৬৯ সাল থেকে বাগেরহাটে ৪টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন হয়ে আসছিল। এই কাঠামোটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে আসছিল। আসনগুলোর ঐতিহাসিক বিন্যাস ছিল:

  • বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট।

  • বাগেরহাট-২: বাগেরহাট সদর ও কচুয়া।

  • বাগেরহাট-৩: রামপাল ও মোংলা।

  • বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা।

কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৩ জুলাই (২০২৫) নির্বাচন কমিশন একটি প্রাথমিক প্রস্তাবনায় বাগেরহাটের ৪টি আসন কমিয়ে ৩টি করার এবং গাজীপুরে একটি নতুন আসন (গাজীপুর-৬) বাড়ানোর কথা জানায়।

আন্দোলন ও আইনি লড়াইয়ের দীর্ঘ পথ (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫)

ইসির এই প্রস্তাবনার পরপরই স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তারা সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি গঠন করে হরতাল, অবরোধ, অবস্থান, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন শুরু করে। তাদের অভিযোগ ছিল— ইসির আসন পুনর্বিন্যাস গণমানুষের দাবিকে উপেক্ষা করেছে।

জনগণের এই প্রতিবাদ সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন গত ৪ সেপ্টেম্বর (২০২৫) চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। গেজেটে ৪টি আসন থেকে কমিয়ে ৩টি করা হয় এবং সীমানায় পরিবর্তন এনে নতুন ৩টি আসন গঠন করা হয়:

  • বাগেরহাট-১: বাগেরহাট সদর, চিতলমারী ও মোল্লাহাট।

  • বাগেরহাট-২: ফকিরহাট, রামপাল ও মোংলা।

  • বাগেরহাট-৩: কচুয়া, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা।

এই চূড়ান্ত গেজেটকে চ্যালেঞ্জ করে বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামী, জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জেলা ট্রাক মালিক সমিতি হাইকোর্টে দুটি রিট দায়ের করে।

  • ১৬ সেপ্টেম্বর (২০২৫): বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন। রুলে ১০ দিনের মধ্যে ইসিসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়। সেদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মুহাম্মদ জাকির হোসেন।

  • ১০ নভেম্বর (২০২৫): বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ইসির গেজেটকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং বাগেরহাটে ৪টি আসন পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। এই রায় ঘোষণার পরপরই ইসি, গাজীপুর-৬ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সালাহ উদ্দিন সরকার ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন।

  • ১০ ডিসেম্বর (২০২৫): আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে সর্বসম্মত আদেশ দেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বক্তাদের মন্তব্য (১৯৫০-২০২৫)

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ সবসময়ই একটি সংবেদনশীল বিষয়। ১৯৫০-এর দশকে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময় থেকেই আসন বিন্যাসের যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্ক ছিল। ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর থেকে, বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর, জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক বিন্যাসের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা হলেও বাগেরহাটের ক্ষেত্রে সেই ১৯৬৯ সালের বিন্যাসই টিকে ছিল।

বাগেরহাটের ৪ আসন কমানোর প্রতিবাদে ৩ জুলাই, ২০২৫ তারিখে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির পক্ষে এক নেতা মন্তব্য করেন, "ইসির এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি গেজেট নয়, এটি বাগেরহাট অঞ্চলের ঐতিহাসিক প্রতিনিধিত্বের ওপর আঘাত। জনগণের দাবিকে পদদলিত করে কোনো সিদ্ধান্ত টিকবে না।"

অন্যদিকে, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ আপিল বিভাগের রায়ের পর ব্যারিস্টার শেখ মুহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, "এটি শুধু একটি আইনি জয় নয়, এটি দেশের গণতন্ত্র ও গণমানুষের প্রতিনিধিত্বের প্রতি আদালতের সর্বোচ্চ সম্মান।"

এই রায়ের ফলে ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে অন্যান্য রাজনৈতিক ঘটনাও শিরোনাম হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • বিকেলে ৩টা ২৯ মিনিটে: ‘গাজীপুর-৬ আসন ফিরল না, জয় হলো বাগেরহাটবাসীর’ শীর্ষক খবর প্রকাশিত হয়।

  • দুপুর ২টা ২৬ মিনিটে: ‘বিএনপি-জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থীদের জন্য এনসিপির দরজা খোলা’ বলে মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন।

  • দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে: এনসিপির কোন আসনে কে নির্বাচন করবেন, তার তালিকা প্রকাশ হয়।

এসব ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দেয় যে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আসন বিন্যাস এবং দলীয় কৌশল নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। আদালতের এই রায় সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গণদাবি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের গুরুত্বকে আরও প্রতিষ্ঠিত করলো।


সূত্র

  • যুগান্তর পত্রিকার প্রাথমিক প্রতিবেদন ও নিজস্ব সংবাদ।

  • সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের প্রকাশিত রায়ের কপি ও কোর্টরুম পর্যবেক্ষণ।

  • রিটকারী আইনজীবীদের প্রেস ব্রিফিং।

  • বাগেরহাটের সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির আন্দোলন সংক্রান্ত নথি ও বক্তব্য।

  • নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেট ও প্রস্তাবনা।

  • বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংসদীয় নির্বাচন সম্পর্কিত সরকারি তথ্য।


বিশ্লেষণ প্রতিবেদন কারির নাম

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency