| বঙ্গাব্দ

মির্জা ফখরুল: ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র বিভাজনে বিশ্বাস করি না; নতুন বাংলাদেশের জন্য পুরানো রাষ্ট্রকাঠামো বদল জরুরি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-12-2025 ইং
  • 4668506 বার পঠিত
মির্জা ফখরুল: ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র বিভাজনে বিশ্বাস করি না; নতুন বাংলাদেশের জন্য পুরানো রাষ্ট্রকাঠামো বদল জরুরি
ছবির ক্যাপশন: মির্জা ফখরুল

ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র বিভাজনে বিশ্বাস করি না’: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঘোষণা; নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে পুরানো রাষ্ট্রকাঠামো বদল ও সাইবারওয়ারে সজাগ থাকার আহ্বান

প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ধর্মভীরু, কিন্তু বিভাজনবিরোধী: ফখরুলের রাষ্ট্রচিন্তা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তার দল ধর্মভীরু হলেও ধর্মকে ব্যবহার করে রাষ্ট্র বিভাজনে বিশ্বাসী নয়। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, "তবে একটি গোষ্ঠী ধর্মের নামে দেশে বিভাজনের পথ সৃষ্টি করতে চায়।"

রোববার (৭ ডিসেম্বর) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলটির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি মূলত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরছে।

গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ও সাইবারওয়ার

মির্জা ফখরুল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসার একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এই প্রত্যাবর্তনের পথেও নানা বাধা আসছে।

তিনি বিশেষভাবে অপপ্রচার ও সাইবারওয়ার নিয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে এবং এই সাইবার যুদ্ধের বিষয়ে দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে জনগণকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, "একমাত্র বিএনপিই দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে।"

পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগের আমলে ধ্বংস হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।

পুরানো কাঠামো নয়, চাই নতুন বাংলাদেশ

বিএনপি মহাসচিব তরুণ সমাজের মন-মানসিকতার পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, "তরুণ সমাজের মন-মানসিকতার অনেক পরিবর্তন এসেছে। সবাই সর্বক্ষেত্রে পরিবর্তন চায়। নতুন বাংলাদেশের চিন্তা সবার মধ্যে এসেছে।"

তিনি স্বীকার করেন, পুরানো ধাঁচের রাষ্ট্রকাঠামো আর উপযোগী থাকছে না। এই পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে তিনি বিএনপিকে নতুন চিন্তার আলোকে তৈরি করতে চান বলেও মন্তব্য করেন। এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, বিএনপি শুধু ক্ষমতায় ফিরে আসতেই নয়, বরং রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারেও আগ্রহী।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: ধর্মীয় সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক বিভাজন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে (১৯৫০-২০২৫) ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে রাজনীতি সবসময়ই আলোচিত হয়েছে। ১৯৫০-এর দশকে শুরু হওয়া ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সকল ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। মির্জা ফখরুলের বক্তব্য সেই ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে ধরে রাখার এবং ধর্মের নামে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

  • সাম্প্রতিক ইতিহাস: বিগত বছরগুলোতে দেশের রাজনীতিতে ধর্মীয় বিভাজনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন দলের বিরুদ্ধে। মির্জা ফখরুল (ডিসেম্বর, ২০২৫) এই বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে তার দল বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করলেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও তারেক রহমানের তদারকি

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তার চিকিৎসার জন্য সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেন, তারেক রহমান নিজেই পুরো চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকি করছেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, "এতো মানুষের প্রার্থনা স্রষ্টা নিশ্চয়ই কবুল করবেন।"


সূত্র ও বিশ্লেষণ

সূত্র: ১. বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান (কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, ঢাকা, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫)। ২. বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মূল বক্তব্য। ৩. বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চিকিৎসা সংক্রান্ত তদারকি।

বিশ্লেষণ প্রতিবেদন কারির নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

বিশ্লেষণ: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য দেশের রাজনীতিতে দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ—ধর্মীয় বিভাজন এবং পুরনো রাষ্ট্রকাঠামোর অকার্যকারিতা—নিয়ে বিএনপির ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে। ২০২৫ সালে এসে যখন দেশে গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তখন ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তার হুঁশিয়ারি দেশের ১৯৫০-এর দশকের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে রক্ষা করার অঙ্গীকার। 'পুরানো ধাঁচের রাষ্ট্রকাঠামো আর উপযোগী থাকছে না'—তার এই মন্তব্য প্রমাণ করে, বিএনপি সরকার গঠন করলে কেবল ক্ষমতা পুনরুদ্ধার নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাঠামোগত সংস্কারের দিকেও মনোনিবেশ করতে পারে। সাইবারওয়ার নিয়ে তার সচেতনতা ডিজিটাল যুগে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার জন্য নতুন কৌশল অবলম্বনের ইঙ্গিত দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency