| বঙ্গাব্দ

জিয়া-খালেদার আদর্শ থেকে বিচ্যুতিতে বিএনপির রাজনীতি: তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি হতাশা প্রকাশ করলেন ছাত্রশিবির সভাপতি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-11-2025 ইং
  • 2353067 বার পঠিত
জিয়া-খালেদার আদর্শ থেকে বিচ্যুতিতে বিএনপির রাজনীতি: তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি হতাশা প্রকাশ করলেন ছাত্রশিবির সভাপতি
ছবির ক্যাপশন: ছাত্রশিবির সভাপতি

জিয়া-খালেদার আদর্শ থেকে বিচ্যুতিতে বিএনপির রাজনীতি: প্রশ্ন তুললেন ছাত্রশিবির সভাপতি

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্টে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানবেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের সঙ্গে বর্তমান বিএনপির রাজনীতির বিচ্যুতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে গত বছরের ৫ আগস্টের (৩৬ জুলাই) গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী দেড় বছরের বিএনপির কার্যক্রম নিয়ে তিনি কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন।


১. শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি মুগ্ধতা

ছাত্রশিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সচেতন নাগরিক হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। এর পেছনে তিনি তিনটি বিশেষ কারণ উল্লেখ করেছেন:

  • জাতীয় ঐক্যের সূচনা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভাজনের দেয়াল ভেঙে ঐক্যের সূচনা করেছিলেন।

  • সাহসী অবস্থান: আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাঁর ছিল দৃঢ় ও সাহসী অবস্থান।

  • দূরদর্শী নেতৃত্ব: পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে তাঁর কৌশলগত অবস্থান ছিল দূরদর্শী নেতৃত্বের গুণাবলি।

২. আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া ও খুনী হাসিনা: আদর্শিক পার্থক্য

তিনি শৈশব থেকে বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী (সাবেক) শেখ হাসিনাকে দেখে বড় হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি খালেদা জিয়ার চরিত্রের অন্যতম দিক হিসেবে 'নম্রতা বা সফটনেস'-এর প্রশংসা করেন এবং শেখ হাসিনাকে তার সম্পূর্ণ বিপরীত বলে মন্তব্য করেন।

তবে খালেদা জিয়াকে যে পরিচয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি চিনেন, তা হলো—দেশের স্বার্থে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’। তিনি বলেন, ১/১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়া জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন, কিন্তু ফ্যাসিবাদ ও দেশবিরোধী কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে নূন্যতম মাথা নত করেননি।

বেগম জিয়ার অসুস্থতায় দলমত নির্বিশেষে সবার দোয়া প্রার্থনাকে তিনি দেশের ইতিহাসে বিরল বলে উল্লেখ করেন এবং বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁর চিন্তা ও পরামর্শকে এই প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য মনে করেন।

৩. তারেক রহমানের নেতৃত্বে 'নয়া সংস্কৃতি' নিয়ে হতাশা

ছাত্রশিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে একজন ‘স্মার্ট ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আশাবাদী ছিলেন যে, ৫ আগস্টের পরবর্তী বাংলাদেশে তারেক রহমান রাজনীতিতে একটি নয়া সংস্কৃতি এবং ‘স্মার্ট মুভ’ দিবেন, যা উদারতা ও বিভাজনমুক্ত রাজনীতি নিশ্চিত করবে।

তবে গত দেড় বছরের বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্র নিয়ে তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বিএনপির বর্তমান কার্যক্রম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার আদর্শের সাথে কোনোভাবেই মিলছে না। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই বিচ্যুতিতে তারেক রহমানের হাত আছে, নাকি তিনি অন্য কোনো শক্তি বা নেতাদের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন।

  • ছাত্রদল-ছাত্রশিবির দূরত্ব: বিশেষত ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের আগে ছাত্রদলের সাথে ছাত্রশিবিরের সম্পর্ক এবং পরের সম্পর্কের মাঝে যে অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়েও তিনি কৌতূহলী।

৪. জামায়াতের প্রতি বিএনপির 'তাচ্ছিল্যের আচরণ' ও ভুল পলিসি

জাহিদুল ইসলাম নিশ্চিত তথ্য দিয়ে জানান যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর পক্ষ থেকে জাতীয় স্বার্থে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েই বিএনপির সাথে সম্পর্ক অটুট রাখার চেষ্টা এখনো চলমান। কিন্তু এর বিপরীতে বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতের প্রতি অনেকটা তাচ্ছিল্যের আচরণ করা হয়েছে।

তিনি বিএনপির সবচেয়ে মারাত্মক ভুল পলিসি হিসেবে দুটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন:

  1. বিভাজনের রাজনীতি: আওয়ামী লীগ নিজেদের ও আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কাউকে সরকারি দল ও বিরোধী দল হিসাবে ভাবতে রাজি নয়। তাদের এই ‘আজব চিন্তা’ কতটুকু বাস্তব হবে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

  2. ‘চেতনার ব্যবসা’: ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতো ৭১-এর সঠিক স্পিরিট লালন না করে শুধু '৭১, ৭১, ৭১' জিকির তোলা এবং আদর্শিক বয়ানের বিপরীতে ‘চেতনার ব্যবসা’ করা। তিনি মনে করেন, এই প্রজন্ম ঘৃণাভরে এই রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে।

কারাগারে ১৫ বছরের নির্যাতনের চিত্র স্মরণ করে তিনি বলেন, ছাত্রশিবির ও জামায়াত ছাড়াও হাজার হাজার বিএনপির নেতা-কর্মীদের খুন, গুম ও নির্যাতনের সাক্ষী তিনি। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী বিএনপির পলিসি মেকাররা ঠিক কোন রাজনীতি শুরু করলেন, তার হিসাব মেলাতে পারছেন না।

৫. ভবিষ্যৎবাণী ও আদর্শিক সতর্কতা

জাহিদুল ইসলাম তারেক রহমানের উপর আশাহত হতে চান না এবং তাঁকে কারও শৃঙ্খলে আবদ্ধ না থেকে নিজের স্বকীয়তা ও পিতা-মাতার রক্তকে ধারণ করে রাজনীতি করার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, ছাত্রশিবিরসহ সকল দেশপ্রেমিক বিপ্লবী শক্তি তাঁকে সহযোগিতা করবে।

পোস্টের শেষে তিনি দুটি সতর্কতামূলক ভবিষ্যৎবাণী দিয়েছেন:

  1. বিএনপি'র টিকে থাকার শর্ত: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপসহীন নেত্রীর আদর্শকে ধারণ করে যতদিন বিএনপি দলের পলিসি নির্ধারণ করবে, ঠিক ততদিনই বাংলাদেশে বিএনপি টিকে থাকবে। তাঁদের আদর্শকে মাইনাস করে এর বিপরীত চিন্তা ও রাজনীতি কোনোভাবেই টিকবে না

  2. বাম ও কথিত বন্ধু রাষ্ট্রের প্রভাব: বাম এবং কথিত বন্ধু রাষ্ট্র (আধিপত্যবাদী) এ দেশের ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকার করে নাই। তারা যাদের ওপর সওয়ার হয় দেশের ক্ষতির পাশাপাশি সেই দল বা আদর্শের ১২টা বাজিয়ে ছেড়ে দেয়।

তিনি উপদেশ দেন, ক্ষমতা কখনোই স্থায়ী হয় না, কিন্তু আচরণ ও আদর্শ মানুষকে ভালোবাসা কিংবা ঘৃণার স্থায়ী পাত্র বানিয়ে দেয়।


সূত্র (Source)

  1. জাহিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্ট (বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি)।

  2. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির রাজনৈতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ তথ্য।

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency