প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়া কঠোর অবস্থানে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেনের বর্তমান সরকার ‘অবৈধ’ এবং এই অবৈধ সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি চুক্তি করা অর্থহীন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইউক্রেনীয় সেনারা তাদের দখলে থাকা অঞ্চল থেকে না সরলে রাশিয়া বলপ্রয়োগে তা বাস্তবায়ন করবে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) তিন দিনের কিরগিজস্তান সফর শেষে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে পুতিন এই কঠোর বার্তা দেন।
পুতিনের দাবি, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এই কারণে কিয়েভ সরকারের বৈধতা নষ্ট হয়েছে।
তবে, কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন এবং দেশে চলমান সামরিক আইন পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা সম্ভব নয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ নিরসনে যে পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন, সে প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন পুতিন। তিনি স্পষ্ট করেন:
“ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি কোনো খসড়া চুক্তি নয়, বরং এটি আলোচনার জন্য উত্থাপিত কিছু বিষয়মাত্র—যা ভবিষ্যতের চুক্তির ভিত্তি হতে পারে।”
পুতিন জানান, রাশিয়ার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনায় নিলেও, আলোচনার জন্য আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তার ভাষায়, "আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে বসে কথা বলতে হবে। প্রতিটি শব্দ গুরুত্বপূর্ণ।"
রুশ প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের জন্য তার পুরনো এবং কঠোর শর্তটি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন:
"ইউক্রেনীয় সেনারা তাদের দখলে থাকা অঞ্চল থেকে সরে গেলে যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে। যদি তারা না সরে, তাহলে আমরা বলপ্রয়োগে তা বাস্তবায়ন করব।"
পুতিন পূর্বের দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের পুরো অংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে—এমনকি যেসব এলাকা এখনো রাশিয়ার দখলে আসেনি, সেখান থেকেও। এছাড়া, তিনি ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান বন্ধ রাখতে এবং পশ্চিমা সেনা উপস্থিতি নিষিদ্ধ করতে চান, যার মূল লক্ষ্য হলো ইউক্রেনকে ধীরে ধীরে রাশিয়ার প্রভাবক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা।
রাশিয়ার এই কঠোর বক্তব্যের মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। আগামী সপ্তাহে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মস্কো সফর নির্ধারিত রয়েছে। একই সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকলের কিয়েভে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলা চালায়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে বড় সংঘাতের সূচনা করেছিল। পুতিনের বর্তমান দাবি এবং হুঁশিয়ারি এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ালো।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু (পুতিনের বক্তব্য)
কিয়েভ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া (বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা)
হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং (ট্রাম্পের প্রস্তাবনা সংক্রান্ত)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |