প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-৮ আসনে ‘ইনকিলাব মঞ্চে’র মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি তার নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। মাঠে একটানা কাজ করতে গিয়ে প্রার্থীর শারীরিক ক্লান্তি এবং অন্যদিকে একমাত্র সন্তানের সান্নিধ্য না পাওয়ার ব্যাকুলতা, এই দুই বিপরীতমুখী আবেগ সম্প্রতি উঠে এসেছে তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে। প্রচারণার অর্জন ও অভিজ্ঞতা ভক্ত-সমর্থকদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার এই প্রক্রিয়া তাকে সাধারণ ভোটারদের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) দিনগত রাত ২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে ওসমান হাদি নির্বাচনি টিমের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
পোস্টে ওসমান হাদি জানান, টানা দুই সপ্তাহ ধরে তার নির্বাচনি টিমের সদস্যরা ফজরের নামাজ থেকে এশার নামাজ পর্যন্ত ঢাকা-৮ আসনের অলিগলিতে হেঁটে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই অক্লান্ত পরিশ্রমে টিমের সবার পা ফুলে গেছে। রাতে ফিরে সবাই একসাথে ফ্লোরিং করে শুয়ে থাকেন এবং আবার ভোর পাঁচটায় উঠে ফজরের নামাজ ধরতে ছুটে যান কোনো এক মসজিদে।
হাদি লেখেন:
“কয়েকদিন পরে বাসায় আসলাম। দুই সপ্তাহ ধরে একটানা ফজর থেকে এশা পর্যন্ত ঢাকা-৮ এর অলিতে গলিতে হাঁটতে হাঁটতে টিমের সবার পা ফুলে গেছে। রাতে ফিরে সবাই একসাথে শুয়ে থাকি ফ্লোরিং করে। রাত দুইটায় শুয়ে আবার পাঁচটায় উঠে কোনো এক মসজিদে গিয়ে ফজর ধরি সবাই। ”
শরীরের তীব্র ব্যথা সত্ত্বেও রাজপথে জনগণের কাছ থেকে পাওয়া ‘অসীম ভালোবাসা’ তাকে বিশ্রাম থেকে দূরে রাখছে। ডাক্তার তাকে প্রোপার রেস্ট নেওয়ার পরামর্শ দিলেও, এই ভালোবাসা বিশ্রামের প্রয়োজন ভুলিয়ে দিয়েছে।
প্রচণ্ড শারীরিক ক্লান্তির চেয়েও বেশি কষ্টের জায়গাটি হলো পরিবার। ঢাকায় থাকা সত্ত্বেও টানা দুই-তিন দিন একমাত্র সন্তানের সঙ্গে দেখা হয় না এই প্রার্থীর। শিশুটির কচি মুখে ‘আধো আধো আব্বা’ ডাক শোনার সুযোগ না পাওয়ায় তার বাবা হিসেবে হাদির মন খারাপ হয় খুব। স্ত্রী মাঝে মাঝে ভিডিও পাঠালেও, কাছে গিয়ে একটু কোলে নেওয়া বা চুমু খাওয়ার সুযোগ হয় না।
তবে এই কষ্টের মাঝেও তিনি খুঁজে পান প্রেরণা। সন্তানের সান্নিধ্য না পাওয়ার দুঃখ তিনি ভুলে যান নিমিষেই যখন দেখেন তার টিমের ভাইগুলোর ক্লান্ত চোখের দিকে।
“বাবা হওয়ার পর থেকে আমার ভাইগুলোরে ঠিক নিজের বাচ্চা মনে হয়। আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষের জন্য ভীষণ ক্লান্ত দেহে ওদের আপ্রাণ লড়াই দেখে একলা আমার চোখ ভিজে যায়।”
রাত ২টায় বাসায় ফিরেও ছেলে যখন ঘুমাচ্ছিল, তখন তিনি ভাবেন ভোরবেলা আবার বের হয়ে গেলে ছেলে জানবেও না যে, তিনি দেখতে এসেছিলেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রার্থীর ব্যক্তিগত আবেগ ও ত্যাগ জনগণের কাছে সবসময়ই একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।
১৯৭০-এর নির্বাচন: তৎকালীন নেতারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে মানুষের সঙ্গে মিশে প্রচারণা চালাতেন। প্রথাগত যোগাযোগ মাধ্যমের চেয়ে ব্যক্তিগত সংযোগ ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রচারণায় শারীরিক শ্রম এবং ব্যক্তিগত ত্যাগের মানসিকতা আজকের দিনের প্রচারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের রাত-দিন রাস্তায় কাটানোর চিত্র দেখা গেছে। জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ ত্যাগের এই ধারা আজও চলমান। **(১৯৫০-২০২৫ প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের নির্বাচন সবসময়ই কেবল নীতিগত লড়াই নয়, এটি কর্মীদের আত্মত্যাগ ও প্রার্থীর ব্যক্তিগত জীবনের ত্যাগের কাহিনিও বটে।) **
আধুনিক প্রচারণা: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের যুগেও (২০২৫) শরিফ ওসমান হাদীর মতো প্রার্থীরা শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাওয়ার ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তবে, এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত আবেগ প্রকাশের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে একটি 'ইমোশনাল কানেকশন' তৈরি করা আধুনিক প্রচারণার একটি নতুন কৌশল।
এই পোস্টের মাধ্যমে ওসমান হাদি তার কর্মী বাহিনীর আত্মত্যাগ ও পরিশ্রমের কথা তুলে ধরেছেন এবং তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রার্থনা করেছেন: “পাগল এই প্রাণগুলোরে হাশরের দিনে তুমি খুব খুশী করে দিও খোদা।”
১. শরিফ ওসমান হাদীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের পোস্ট (২৬ নভেম্বর, ২০২৫)। ২. বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রচারণার ইতিহাস ও সমাজ বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ। ৩. ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনি পর্যবেক্ষক প্রতিবেদন (নভেম্বর, ২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |