রামপুরায় ২৮ জন হত্যা: কর্নেল রেদোয়ান ও মেজর রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির, নিরাপত্তা জোরদার
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার শুনানিতে দুই সেনা কর্মকর্তা কর্নেল রেদোয়ান ও মেজর রাফাতকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
ট্রাইব্যুনাল এলাকায় আজও কড়া নিরাপত্তা তৎপরতা দেখা গেছে। আদালতের চারদিক ও ভেতরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত মোতায়েন ছিল, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামলার শুনানি গ্রহণ করবেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে ৮ অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র ট্রাইব্যুনাল আমলে নেয়। অভিযোগ গ্রহণের পর আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার আসামিরা—
বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম
বিজিবির কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম মুন
ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম
রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে—গত জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার আন্দোলনের সময় রামপুরায় গুলিতে ২৮ জন নিহত ও অনেকে আহত হন। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাস্থলে বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুলকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি করতে দেখা যায়, এবং অন্যান্য আসামিরা ঘটনাটির নেতৃত্ব দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ এ অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে।
উল্লেখ্য, এই মামলার অভিযোগ প্রমাণ সাপেক্ষে বিচার হবে; আদালতের রায় ঘোষণার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত হিসেবে উল্লেখ করা যাবে না।
আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজকের শুনানিতে—
🔹 অভিযোগ গঠনের পক্ষে ও বিপক্ষে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য
🔹 সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত
🔹 জামিন/আটক অবস্থার ধারাবাহিকতা—এসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারিক প্যানেল নেবে।
বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচার প্রথম গতি পায় ২০১০ সালে। এরপর—
🔸 যুদ্ধকালীন অপরাধ বিচার
🔸 গণহত্যা, নির্যাতন, হত্যা ও নিপীড়নের মামলা
🔸 আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বল প্রয়োগ সংক্রান্ত মামলা
এসব অভিযোগের বিচারও ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত করা হয়।
২০২৪–২৫ সালে ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রাণহানির ঘটনাগুলো নিয়ে তদন্ত শুরুর পর নতুনভাবে মানবতাবিরোধী মামলা গ্রহণ শুরু হয়। রামপুরা মামলাটি সেই মামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত।
১) আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ — মামলার ভবিষ্যৎ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
২) এই মামলার রায়ের ওপর দেশের সাম্প্রতিক মানবাধিকার প্রেক্ষাপটের প্রভাব থাকতে পারে — আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি রয়েছে।
৩) শুনানি শুরু হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারের প্রত্যাশা বাড়ছে — তবে আদালত নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করবে বলে সবাই আশা করছেন।
১) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলার নথি এবং স্টেট প্রসিকিউশন তথ্য
২) তদন্ত সংস্থার মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিবেদন আর্কাইভ
৩) রামপুরা শিক্ষার্থী আন্দোলন–সংক্রান্ত বিচার প্রক্রিয়া সংরক্ষণকারী নথি
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |