জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: প্রশাসনে রদবদল এক দলের খুশি করার জন্য!
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সম্প্রতি দেশের প্রশাসনে সাম্প্রতিক রদবদল নিয়ে এক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, এই রদবদলটি কোনো নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নয়, বরং এটি একটি বিশেষ দলের স্বার্থে এবং তাদের খুশি করার জন্য গোপন শলাপরামর্শের মাধ্যমে করা হয়েছে। তার দাবি, এই ধরনের প্রশাসনিক নিয়োগ ও বদলির কারণে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সমান সুযোগ) নষ্ট হচ্ছে।
রোববার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "প্রশাসনে যে রদবদল হচ্ছে, তা একটি নির্দিষ্ট দলের খুশি করার জন্য গোপন শলাপরামর্শের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এর ফলে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে এবং জনগণের জন্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।"
তার মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় পক্ষপাতিত্বের সৃষ্টি করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও দুর্বল করে তুলবে। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা আশা করি, সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে, যাতে নির্বাচনে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না হয়।”
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও জানান, “এই ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করে। জামায়াতে ইসলামী এবং আটটি বিরোধী দল একসঙ্গে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে কাজ করবে, যাতে জনগণের জন্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।”
বিরোধী দলগুলো একে অন্যকে সহযোগিতা করতে এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে একত্রিত হয়েছে। তাদের এই আন্দোলন মূলত জনগণের স্বার্থে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া জনগণের কাছে আরো বিশ্বাসযোগ্য হয়। তিনি আরও বলেন, "আমরা প্রধান উপদেষ্টা এবং সরকারের কাছে দাবি জানাই যাতে তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।"
এদিনের সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, “জুলাই জাতীয় সনদে (সংবিধান সংস্কার) গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।” তিনি বলেন, “আমাদের যে দাবিগুলো আংশিকভাবে পূর্ণ হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আট দলের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
এছাড়া, আট দলের লিঁয়াজো কমিটি পরবর্তী বৈঠকে বসে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
এ সময় মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের জনগণের মধ্যে সম্ভাব্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন ঘোষণায় জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। সরকারকে এই সংকটের সমাধান করতে হবে, যাতে জনগণের মধ্যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অস্থিরতা না সৃষ্টি হয়।”
তাহলে, সরকার যদি এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে না করে, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং গণভোটের সুষ্ঠুতা নিয়ে আরও বেশি প্রশ্ন উঠবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের এই বক্তব্য দেশব্যাপী রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং নির্বাচনী পরিবেশের প্রতি তীব্র মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তার অভিযোগের মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে যে, বর্তমান প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং নিয়োগের প্রক্রিয়া সঠিক নয়, এবং এটি দেশের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাঁধাগ্রস্ত হতে পারে।
এছাড়া, আটটি দলের একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত এবং জনগণের স্বার্থে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও জনগণের পক্ষে রাখার উদ্যোগ দেশের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। একদিকে যেমন তারা সরকারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ আশা করছে, তেমনি অন্যদিকে জনগণের দাবির প্রতি আস্থা রাখার জন্য সরকারের কাছে চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |