| বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়: রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত এবং বিচারিক প্রতিক্রিয়া

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 02-11-2025 ইং
  • 3768315 বার পঠিত
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়: রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত এবং বিচারিক প্রতিক্রিয়া
ছবির ক্যাপশন: তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়: রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত এবং বাংলাদেশের আইনি প্রেক্ষাপট"

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের আইনজীবী এবং রাজনৈতিক নেতারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত রায়ের পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) নিয়ে আদালতে শুনানি চালিয়ে আসছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে এই বিষয়টি নিয়ে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে রাজনৈতিক সংকটও দেখা দিয়েছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ২ নভেম্বর আপিল বিভাগের শুনানিতে বলেছেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় দিয়েই দেশে রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত হয়েছে।”

এই শুনানির ৬ষ্ঠ দিন, রোববার সকাল ৯:২০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। বিএনপির পক্ষে এই শুনানিতে অংশ নেন জয়নুল আবেদীন, এবং রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

গত ৩০ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য আপিলের টানা ৫ম দিনের শুনানি শেষ হয়েছিল। এর আগে গত ২৯ অক্টোবর, ২৮ অক্টোবর, এবং ২৩ অক্টোবরও এই বিষয়ে বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আদালতে রিভিউ আবেদন করা হয় এবং এ বিষয়ে গত ২৭ আগস্ট শুনানি হয়। পরবর্তীতে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ আরো পাঁচজন এই আপিল করেছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। তবে, ২০০৪ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হলে, ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টে আপিলের মাধ্যমে ২০১১ সালে আপিল বিভাগ সেই রায় বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের সিদ্ধান্ত দেয়।

এর পর ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়, এবং এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করা হয়। এরপর একাধিক ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক দল এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেন। গত বছর (২০২৪) একাধিক আবেদন করা হয়, এবং ১৬ অক্টোবর বিএনপির পক্ষ থেকে পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা কী ছিল এবং তা বাতিলের পর থেকে বাংলাদেশে কী ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে? তবে, বিচার বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা এই মুহূর্তে দেশের রাজনীতি ও আইনি কাঠামোর ওপর একটি গভীর প্রভাব ফেলছে।

বিশ্লেষণ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নানা সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে পারস্পরিক সমঝোতার অভাব এবং রাজনৈতিক বিভাজন বৃদ্ধি পাওয়া। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যদি আবার ফিরিয়ে আনা হয়, তাহলে তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে, যা দেশের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করবে। তবে, এই প্রক্রিয়ার আইনি সংকট এবং রাজনৈতিক সংকটের গভীরতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।


সংবাদসূত্র

  1. আপিল বিভাগের শুনানি – ২ নভেম্বর ২০২৫

  2. আদালতের রিভিউ আবেদন – ৩০ অক্টোবর ২০২৫

  3. বিএনপির আইনজীবীর বক্তব্য – ২ নভেম্বর ২০২৫

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency