| বঙ্গাব্দ

এনসিপি'তে শৃঙ্খলা না থাকলে কেউ থাকবে না: ছাত্র সম্মেলনে কঠোর বার্তা দিলেন সারজিস আলম

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-10-2025 ইং
  • 3784792 বার পঠিত
এনসিপি'তে শৃঙ্খলা না থাকলে কেউ থাকবে না: ছাত্র সম্মেলনে কঠোর বার্তা দিলেন সারজিস আলম
ছবির ক্যাপশন: সারজিস আলম

এনসিপিতে কঠোর শৃঙ্খলা জরুরি: "দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো"—ছাত্র সম্মেলনে বললেন সারজিস আলম

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম দলের অভ্যন্তরে কঠোর শৃঙ্খলা (চেইন অব কমান্ড) প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, এই শৃঙ্খলা বজায় রাখা না গেলে দলের ভবিষ্যৎ সংকটাপন্ন হবে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনে (২০২৫) তিনি এসব কথা বলেন।

শৃঙ্খলা না থাকলে ভবিষ্যৎ নেই:

সারজিস আলম তার বক্তব্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "এনসিপি ও এর সংগঠনের সব সদস্যকে চেইন অব কমান্ড বা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করতে হবে।" তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "শৃঙ্খলা থাকলে তিন মাসের মধ্যে সদস্য সংখ্যা পাঁচ লাখে পৌঁছাবে; শৃঙ্খলা না থাকলে ৫০ জনে সীমাবদ্ধ থাকবে। এক বছর পর কেউ থাকবে না।" এ প্রসঙ্গে তিনি একটি কঠোর মন্তব্য করে বলেন, "দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো।"

তিনি উল্লেখ করেন, শৃঙ্খলায় একটি চেইন অব কমান্ড থাকা অত্যাবশ্যক, যার মাধ্যমে দেশের প্রত্যেকটি ইউনিট সঙ্গবদ্ধ হবে। যদি অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বিভাজন কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়, তবে ছাত্রসংগঠনের সদস্য সংখ্যা ও মান অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি হবে। তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "অন্তর্দ্বন্দ্ব এখনো প্রকট।"

‘মাই ম্যান’ পলিটিক্স ও লোভের স্থান নেই:

সারজিস আলম স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এনসিপি ইউনিট আহ্বায়ক কমিটিতে কোনোভাবেই 'মাই ম্যান’ পলিটিক্স (ব্যক্তিগত অনুগতদের রাজনীতি) বরদাশত করবে না। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আগামীতে ছাত্রসংসদকে সেই নির্দিষ্ট ইউনিটে নেতৃত্ব দেবেন "সবচেয়ে যোগ্য, পার্টির প্রতি বিশ্বস্ত এবং আগামীর বাংলাদেশ ও এনসিপির যুব শক্তিকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখার মতো মানুষ।"

তিনি বলেন, "ছাত্রসংসদের বিভিন্ন পদে থেকে যারা নিজের লোভ ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি, তাদের এনসিপি বা ছাত্রসংসদে কোনো অবস্থান নেই।" তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, আগামীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যথাযথ মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিপ্লব থেকে গণতান্ত্রিক যাত্রা:

সারজিস আলম ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, "২০২৪ সালের লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। আমরা সেই অভ্যুত্থান ও বিপ্লব থেকে বের হয়ে গণতান্ত্রিক যাত্রায় পা রেখেছি।" তিনি মনে করেন, এনসিপি-এর কাজ হলো 'করাপ্টেড সিস্টেমের বিরুদ্ধে' কাজ করা।

উপস্থিত ছাত্রনেতাদের প্রতি তার আহ্বান, "আমরা যেন সিস্টেমে গা না ভাসিয়ে দিই। বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নতুন করে সিস্টেম তৈরি করি, এটা আপনাদের সবার কাছে আমার আহ্বান।"

বিশ্লেষণ:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের এই বক্তব্যটি মূলত দলটির ছাত্রসংগঠনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং সংগঠনের অভ্যন্তরে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি বার্তা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর যে সমস্ত নতুন রাজনৈতিক দল বা প্ল্যাটফর্ম সক্রিয় হয়েছে, এনসিপি তাদের মধ্যে অন্যতম। এই পরিস্থিতিতে দলের দ্রুত সদস্য বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং 'মাই ম্যান' পলিটিক্সের মতো ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দুর্বলতাগুলো দূর করা জরুরি। "দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো"—এই মন্তব্যটি নেতৃত্বের প্রতি তার দৃঢ়তা ও অসৎ কর্মীদের প্রতি শূন্য সহনশীলতার ইঙ্গিত বহন করে। তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, এনসিপি বর্তমানে সিস্টেমে গা না ভাসিয়ে, বরং অভ্যুত্থানের চেতনা অনুযায়ী নতুন ও দুর্নীতিমুক্ত সিস্টেম তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চায়। অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এই লক্ষ্যের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


সূত্র: ১. বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে আয়োজিত জাতীয় সম্মেলন (২৩ অক্টোবর, ২০২৫)-এ এনসিপি নেতা সারজিস আলমের দেওয়া বক্তব্য।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency