প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট বিভাগের চারটি জেলার অধিকাংশ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এখন দৃশ্যমানভাবে সক্রিয়। তৃণমূল থেকে শুরু করে ধর্মীয় আলোচনায়, সামাজিক কর্মসূচি ও প্রচারণায় তারা ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত। আগ্রাহ্য খবর ও তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে অন্তত ১৭টি আসনে ইতিমধ্যে জমিয়তের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে জমিয়ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আলী মনোনীত হয়েছেন।
সিলেট-৫ আসনে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, প্রার্থী হচ্ছেন (কানাইঘাট–জকিগঞ্জ)
সিলেট-৬ আসনে হাফেজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।
অন্যান্য আসনে যেমন সুনামগঞ্জ-৩ (হাম্মাদ গাজীনগরী), মৌলভীবাজার-৪ (শেখ নূরে আলম হামিদী), হবিগঞ্জ-৪ (নুরুজ্জামান আসাদী) ইত্যাদি মনোনয়ন তালিকায় রয়েছে।
জমিয়তের প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী যুগান্তরকে জানিয়েছেন, “জমিয়ত এখন আর শুধুই ধর্মীয় সংগঠন নয়, একটি সুসংহত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এবার সিলেটে ছয় থেকে আটটি আসনে আমরা ভালো ফল আশা করছি, ইনশাআল্লাহ।”
প্রচারণায় তারা পোস্টার-ব্যানার, ঘরোয়া সভা, মাহফিল, ধর্মীয় আলোচনা ও সামাজিক কর্মসূচি প্রয়োগ করছে — এতে ভোটারদের হৃদয় জয়ের লক্ষ্য।
স্লোগান হিসেবে তারা “শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রগঠন” তুলে ধরেছে — ধর্মসংগঠনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও জনমতের অনুভূতির মিল ঝালিয়ে।
স্থানীয় এলাকায় তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী; বিশেষত পূর্ব সিলেটের গ্রামীণ এলাকায় যেমন কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে তারা যথেষ্ট প্রভাব রাখে।
অতীত নির্বাচনে এই এলাকায় তাদের ভোটব্যাংক ছিল শক্ত; এ সুযোগকে তারা ছাড়ছে না।
স্তরবদ্ধ প্রচারণা: ধর্ম, সমাজ ও উন্নয়ন-পন্থার সঙ্কলন তাদের নির্বাচনী আলোচনা ও জনসাধারণের গায়ে মিশে যেতে পারে।
নতুন গ্রহণযোগ্যতা: 若若 若 পুরাতন ভোটার ও যুবসমাজ তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়লে, পার্থক্য তৈরি হতে পারে।
মনোনয়ন ও প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা: যদি তারা ধানের শীষ প্রতীক পায়, তা ভোটারদের কাছে শক্ত সঙ্কেত দেবে — বিশেষ করে ফারুক ও আলীর মতো নামের ক্ষেত্রে।
বিএনপির সঙ্গে জোট আলোচনা: যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক জোট ঘোষণা হয়নি, তথাকথিত সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছ যেমন দীর্ঘ জোটসঙ্গীতারা।
জোটবদ্ধতা না থাকা: এককভাবে লড়াই করলে ভোট বিভাজন হতে পারে, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় শক্তির সাথে লড়াইতে।
শৃঙ্খলা ও সংগঠন চ্যালেঞ্জ: প্রচারণায় ত্রুটি, পরিচালনায় দুর্বলতা বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ফলকে ব্যাহত করতে পারে।
সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা: কিছু এলাকায় তারা কম সক্রিয় বা প্রতিপক্ষ তাদের কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে।
মনোনয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতা: মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি হলে দলীয় ঐক্য হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সিলেট বিভাগে জমিয়তের আগমন রাজনৈতিক পাহাড়ের মতো — পুরোনো ধারাকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে নতুন রাজনৈতিক গতি অর্জন। তাদের প্রচার-উপাদান, ধর্মীয় ও সামাজিক মঞ্চ, এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তাঁদের দাঁড় করিয়েছে একটি মনযোগী কেন্দ্র হিসেবে।
যাই হোক, ভোটে ফলাফল নির্ধারণ করবে — প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, শক্তিশালী স্থানীয় সংগঠন, জনমত অনুধাবন, এবং ক্রস ভোটার আকর্ষণ। তারা যদি বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন সমন্বয় করতে পারে, তখন হার-জিৎ ম্যাচা পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
অবশেষে, জমিয়তের যেকোনো কার্যক্রম যত শক্তিশালী হোক — শেষ পর্যন্ত ভোটের রূপান্তর এবং নির্বাচনী জয় হবে তাদের প্রকৃত মাপকাঠি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |