প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকা অবস্থায় খাগড়াছড়ি–গুইমারা অঞ্চলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে; সংঘর্ষে কমপক্ষে তিনজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। জেলা প্রশাসনের জারিকৃত নিষেধাজ্ঞা (১৪৪ ধারা) রবিবারও বহাল ছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী মাঠে কাজ করে। পরদিন সোমবার সেনাবাহিনী সংযত আচরণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়।
ট্রিগার ঘটনা: ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালা এলাকায় এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগকে আমলে নিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে (শয়ন শীল) ২৪ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়; পরে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর থেকে এলাকাজুড়ে বিক্ষোভ–অবরোধ ও পাল্টা সমাবেশে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
১৪৪ ধারা: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে খাগড়াছড়ি পৌর এলাকা, সদর ও গুইমারা উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি ও পরবর্তীকালে তা বহাল রাখা হয়।
রবিবারের সহিংসতা (২৮ সেপ্টেম্বর): গুইমারার রামসু বাজার–কেন্দ্রিক এলাকায় সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান, অন্তত আরও চারজন আহত হন; একই সময়ে বাজারের বহু দোকানপাট ও নিকটবর্তী বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ–ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
রবিবার রাতেই আইএসপিআর–এর মাধ্যমে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়—ইউপিডিএফ (মূল) ও সহযোগী সংগঠনের উসকানিতে ২৭–২৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বাড়ে; ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে পরিস্থিতি সাম্প্রদায়িক রূপ নেয়ায় খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি হয়। নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়ে রাতভর কাজ করে; ২৮ সেপ্টেম্বর রামসু বাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে অবরোধ–উসকানির প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং বিকেলের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সেনাবাহিনী সকল পক্ষকে উত্তেজনা পরিহার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার আহ্বান জানায়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমে বলেন—গুইমারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩ জন নিহত ও একজন মেজরসহ ১৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন—“হঠাৎ পাহাড়ে এমন অস্থিরতার নেপথ্যে কারা, তা চিহ্নিত করতে উপযুক্ত তদন্ত প্রয়োজন”; একই সঙ্গে পাহাড়ি–বাঙালি সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
পাহাড়ি অঞ্চলে লম্বা সময় ধরে জাতিগত টানাপোড়েন, ভূমি–সম্পদ–রাজনীতি–সশস্ত্র গোষ্ঠী ও দখল–অভিযোগের মতো সংবেদনশীল ইস্যু বিদ্যমান; একটি ফৌজদারি/যৌন সহিংসতার অভিযোগও দ্রুত রাজনৈতিক–সাম্প্রদায়িক মোড় নিতে পারে।
রামসু বাজারে দোকান–বাড়িঘরে আগুন লাগানো ও লুট–ভাঙচুরের মতো সহিংসতা ঘটায় আতঙ্ক–প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পায়, যার খবর ও দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
জেলা প্রশাসনের ১৪৪ ধারা বহাল; আংশিকভাবে সড়ক অবরোধ শিথিল করার ঘোষণা এলেও (চিকিৎসা–জরুরিতে) জনসমাবেশ–মিছিল নিষিদ্ধ নির্দেশ বলবৎ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টার — “Protest over rape: 3 shot dead in Khagrachhari” (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫; রামসু বাজারে অগ্নিসংযোগ–লুট–ভাঙচুরের বিবরণসহ)।
ঢাকা ট্রিবিউন — “Three killed, four injured in clashes in Khagrachhari” (২৮–২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫; প্রতিবাদ–সহিংসতা ও হতাহতের সংখ্যা)।
আইএসপিআর–সংক্রান্ত প্রতিবেদন — প্রথোম আলো ইংরেজি/আরটিভি ইংরেজি/টিবিএস: ২৭–২৮ সেপ্টেম্বরের উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা ও সংযমের আহ্বান।
সারাবাংলা — “পাহাড়ে এমন অস্থিরতার নেপথ্যে কারা—প্রশ্ন জামায়াত আমিরের” (জামায়াত আমিরের অবস্থান ও তদন্ত দাবির উদ্ধৃতি)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |