প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল নিবন্ধন তালিকায় যোগ হতে যাচ্ছে নতুন ছয়টি নাম। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মাঠ-যাচাই ও নথি যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট শাখা ইতোমধ্যে ফাইলে স্বাক্ষর করেছে; আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) কমিশনের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথি উঠছে। অনুমোদন হলে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে ইসি। প্রাথমিকভাবে যে দলগুলোর নাম ঘুরপাক খাচ্ছে, তার মধ্যে আছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এবং বাংলাদেশ জাতীয় লীগ—বাকি দু’টি দলের নাম কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পর প্রকাশ পাবে। এ খবরটি নিশ্চিত করেছে ইসির বিভিন্ন সূত্র ও জাতীয় গণমাধ্যম।
ইসির সিনিয়র সচিব আকতার আহমেদের ভাষ্য, নতুন দল নিবন্ধন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের বৈঠকেই হবে; এরপর গণমাধ্যমকে জানানো হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। গত সপ্তাহেই তিনি জানান, নিবন্ধন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই কমিশন বসছে।
এবারের রেজিস্ট্রেশন চক্রে প্রক্রিয়াটি হয়েছিল এভাবে: প্রথমে ১৪৩টি দল আবেদন করে; ঘাটতি পূরণের সময়সীমা দিয়ে ইসি দ্বিতীয় দফায় বাছাই করে ২২টি দলকে মাঠ-পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় নেয়। গতকাল রবিবার মাঠ-যাচাইয়ের প্রতিবেদন ও নথিপত্রে সংশ্লিষ্ট শাখা স্বাক্ষর শেষ করে; আজ কমিশনের টেবিলে যাচ্ছে ফাইল। কমিশন প্রয়োজনে প্রস্তাবে সংযোজন-বিয়োজন করতে পারে—তারপরেই গণবিজ্ঞপ্তি।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে আইনি কাঠামোর ভেতরে আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিবন্ধন পেলেই দলগুলো নির্বাচনী প্রতীক, রাষ্ট্রীয় প্রচার-বিধির সুবিধা, আর্থিক ব্যয়ের নির্ধারিত কাঠামো ও সরকারি মিডিয়া অ্যাক্সেস—এসব প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পায়। ফলে তরুণদের নিয়ে গঠিত এনসিপি–সহ নতুন দলগুলোর সামনে মাঠে সংগঠন বিস্তার, প্রার্থী নিয়োগ ও জোট-সমীকরণ গড়ার পথ খোলা থাকবে। এ প্রেক্ষাপটে এনসিপির শীর্ষ সমন্বয়কেরা আজ সিইসির সঙ্গে দেখা করে নিবন্ধন অগ্রগতি ও আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেছেন বলেও নিশ্চিত করেছে গণমাধ্যম।
১৯৫০–১৯৭১: পাকিস্তান পর্বে দল রাজনীতি মূলত প্রশাসনিক স্বীকৃতি ও রাজনৈতিক দমনের দ্বন্দ্বে আবর্তিত; ভাষা-আন্দোলন (১৯৫২) থেকে শুরু করে ১৯৭০ সালের নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও ১৯৭১-এর যুদ্ধ পর্যন্ত দলীয় রাজনীতি রূপ নেয় স্বাধীনতার লড়াইয়ে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় দল নিবন্ধন ধারণাটি ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
২০০৮-এর পর্ব: আধুনিক দল-নিবন্ধন তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ কাঠামোকে সুসংগঠিত করতে ইসি আনুষ্ঠানিক রেজিস্ট্রি তালিকা চালু করে; আজও ইসির ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত দলগুলোর তালিকা, প্রতীক ও নিবন্ধন-তারিখ উন্মুক্ত।
২০১১–২০২৪: তত্ত্বাবধায়ক কাঠামো বিলোপ (২০১১) থেকে শুরু করে টানা কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে মাঠ-সমীকরণে বড় দলীয় প্রাধান্য দেখা যায়; ২০২৪ সালে ছাত্র-নাগরিক আন্দোলনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সংগঠন গঠনের তৎপরতা বাড়ে—এজন্যই ২০২৫ সালের এ রেজিস্ট্রেশন উইন্ডোকে অনেকে ‘নতুন শক্তির প্রবেশদ্বার’ বলছেন। (এ অংশটি চলতি বছরে ইসি ও গণমাধ্যমে উঠে আসা প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত রিপোর্টের বিশ্লেষণ।)
গণবিজ্ঞপ্তিতে সাধারণত (১) নিবন্ধিত দলের নাম, (২) সংক্ষিপ্ত রূপ, (৩) নির্ধারিত প্রতীক, (৪) নিবন্ধন নম্বর ও (৫) নিবন্ধনের কার্যকারিতা–তারিখ স্পষ্ট করা হয়। আজ কমিশন নথি চূড়ান্ত করলে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই ইসি ওয়েবসাইট ও সরকারি গেজেটে এ তথ্য প্রকাশ হবে—তখনই প্রতীকের চূড়ান্ত বরাদ্দও প্রকাশ পাবে। আপাতত ইসি সূত্রে চারটি দলের নাম নিশ্চিত হলেও দু’টি নাম কমিশন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে প্রকাশ করা হচ্ছে না।
ইসি (নীতিগত অবস্থান): কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্তের পরই মিডিয়ায় জানানো হবে; প্রক্রিয়াগত সবকিছু প্রস্তুত।
নতুন দলসমূহ (এনসিপি): তরুণনির্ভর সংগঠন হিসেবে দেশজুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে; নিবন্ধন পেলেই সাংগঠনিক সম্প্রসারণ ও প্রার্থী চূড়ান্তকরণে যাবে।
গণমাধ্যমসমূহ: আজকের মধ্যে ফাইল কমিশনে উঠছে—এনসিপি, বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয় লীগ—এ চারটির নাম উল্লেখ করে অনিশ্চিত দু’টি দলের নাম ঘোষণা-পর্যায়ের আগে প্রকাশ না করার ইসির অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
ইত্তেফাক: “নিবন্ধন পেতে যাচ্ছে এনসিপিসহ ৬ রাজনৈতিক দল” (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, আপডেট ১৪:০৫)।
কালার কণ্ঠ: “এনসিপি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগসহ ৬ দল পাচ্ছে নিবন্ধন” (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫)।
ঢাকা ট্রিবিউন: “Decision on new party registration next week”—ইসি সিনিয়র সচিব আকতার আহমেদের বক্তব্যসমেত (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫) এবং ফলো-আপ রিপোর্ট (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |