| বঙ্গাব্দ

ভারতের ওয়াকফ সংশোধনী আইন আংশিক স্থগিত: সুপ্রিম কোর্টের রায়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 15-09-2025 ইং
  • 4164775 বার পঠিত
ভারতের ওয়াকফ সংশোধনী আইন আংশিক স্থগিত: সুপ্রিম কোর্টের রায়
ছবির ক্যাপশন: সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের ওয়াকফ সংশোধনী আইন: আংশিক স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


ভারতের ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ঘোষিত ওয়াকফ সংশোধনী আইন ২০২৪ সম্পূর্ণ স্থগিত না করে এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় আংশিক স্থগিতাদেশ দিয়েছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫) প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি এজি মাসিহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।

আইনটির প্রেক্ষাপট

  • সংসদের দুই কক্ষেই দীর্ঘ বিতর্কের পর আইনটি পাশ হয়।

  • রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু চলতি বছরের ৫ এপ্রিল ২০২৫ এ আইনে স্বাক্ষর করেন।

  • আইনটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রায় ১০০টিরও বেশি মামলা দায়ের হয়। পরবর্তীতে সবগুলো একত্রিত করে একটি মামলায় রূপান্তরিত হয়।

স্থগিত হওয়া ধারা

১. ধর্ম পালনের শর্ত: নতুন আইনে বলা হয়েছিল, কোনো ব্যক্তি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে দান করতে চাইলে তাকে অন্তত পাঁচ বছর ইসলাম ধর্ম পালন করতে হবে। এই ধারায় আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
২. জেলাশাসকের ভূমিকা: এতদিন জেলা প্রশাসক জরিপ করে কোনো জমি ওয়াকফ সম্পত্তি কি না, তা নির্ধারণের ক্ষমতা রাখতেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট নতুন নির্দেশনায় এই ক্ষমতা আপাতত বাতিল করেছে।

স্থগিত না হওয়া ধারা

  • সংশোধিত আইনে বলা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিলে সর্বোচ্চ চারজন এবং রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডে সর্বোচ্চ তিনজন অমুসলিম সদস্য থাকতে পারবেন। আদালত এ নিয়ম বহাল রেখেছে।

  • রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী পদে অমুসলিম নিয়োগের সুযোগও বহাল রয়েছে। তবে আদালত পরামর্শ দিয়েছে, যতদূর সম্ভব একজন মুসলিমকেই এই পদে নিয়োগ করতে হবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

বিচারপতিরা উল্লেখ করেন, রাজ্য সরকারগুলো সংশোধিত আইনের আলোকে যখন বিধি প্রণয়ন করবে, তখন এ বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হবে। অর্থাৎ, আইনটি আংশিকভাবে কার্যকর থাকলেও পুরো প্রক্রিয়া এখনও রাজ্যভিত্তিক বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।

বিশ্লেষণ

ভারতের ওয়াকফ আইন মূলত ইসলাম ধর্মীয় দাতব্য সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার একটি কাঠামো। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে নানা অভিযোগ ও দুর্নীতির মামলা থাকলেও ২০২৪ সালের সংশোধনী আইনে ধর্মীয় শর্ত, প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং অমুসলিম সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

  • সমর্থকরা বলছেন: অমুসলিম সদস্য যুক্ত হলে ওয়াকফ সম্পত্তির স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বাড়বে।

  • বিরোধীরা বলছেন: এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সমাজ এ রায়ের দিকে গভীর নজর রাখছে, কারণ ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শুধু ধর্মীয় ইস্যুই নয়, বরং সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব রাখে।


সূত্র
১. The Hindu, সেপ্টেম্বর ২০২৫
২. The Indian Express, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৩. কাঠমান্ডু পোস্ট (আঞ্চলিক প্রতিবেদন), সেপ্টেম্বর ২০২৫

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency