🇧🇩 অবৈধ পরামর্শকদের কার্যক্রম বেবিচকে ঝুঁকি তৈরি করছে, আন্তর্জাতিক শাস্তির আশঙ্কা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫: বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বর্তমানে চলছে অবৈধ পরামর্শকদের পরামর্শে, যারা চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও গত ৭ মাস ধরে বেতন ছাড়াই নিয়মিত অফিস করছেন। এই পরামর্শকদের হাতে বিমানের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম রয়েছে, যার কারণে নানা ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, আইকাওর (আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন) নীতিমালা ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন লঙ্ঘন করে এসব অবৈধ পরামর্শক বিমান ইনস্পেকশন, পাইলটদের লাইসেন্স নবায়ন, চেক রাইড এবং সার্টিফিকেশন অনুমোদন সহ গুরুতর দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ ও অযোগ্য এসব পরামর্শকরা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন, তবে এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, অনুমোদন এবং সিদ্ধান্ত রয়েছে। তাদের কার্যক্রমের ফলে বিমান নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের জীবন সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইকাওর নিয়ম অনুযায়ী, এসব দায়িত্ব শুধুমাত্র যোগ্য ও বৈধ পরামর্শকদের দেওয়া উচিত। এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক শাস্তির মুখোমুখি করতে পারে।
যেসব অবৈধ পরামর্শক এখনো বেবিচকে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের মধ্যে অনেকের চুক্তির মেয়াদ প্রায় ৭ মাস আগে শেষ হয়ে গেছে। এসব পরামর্শকরা পাইলটদের লাইসেন্স নবায়ন, বিমান নিরাপত্তা পরীক্ষা, চেক রাইড এবং সার্টিফিকেশন অনুমোদন করছেন, যা সরাসরি উড়োজাহাজের নিরাপত্তা এবং যাত্রী সাধারণের জীবন মরণের সাথে সম্পর্কিত।
সিভিল এভিয়েশন এর সাবেক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “যাদের নিয়োগ অবৈধ হয়ে গেছে, তাদের দেওয়া লাইসেন্স বা সার্টিফিকেশনের বৈধতা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। যদি এই সময়কালে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে তাদের বিরুদ্ধে জবাবদিহি করা সম্ভব হবে না।”
বিমান নিরাপত্তায় এই অবৈধ পরামর্শকদের কার্যক্রম আইকাওর (International Civil Aviation Organization) নীতিমালা লঙ্ঘন করে, যা বাংলাদেশকে “সেফটি কনসার্ন” শাস্তির মুখোমুখি ফেলতে পারে। আইকাওর তদন্তে এই অনিয়ম ধরা পড়লে, বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের উপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সগুলো বিশ্বাসযোগ্যতা হারাতে পারে।
বেবিচকের চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, পরামর্শক ও বিশেষ পরিদর্শকদের নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং অর্থ বিভাগ কর্তৃক পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন অনুযায়ী নির্দেশনা জারি হলেও, গত ৭ মাসে এই নির্দেশনার কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। এর ফলে, বেবিচকের অবৈধ পরামর্শকরা এখনো বেতনের বাইরে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, যা প্রশাসনিক ও মানবিকভাবে অনুচিত।
এই অবৈধ পরামর্শকরা একদিকে বেতন পাচ্ছেন না, অন্যদিকে তারা বিভিন্ন এয়ারলাইন্স থেকে বিশেষ অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন। এর মধ্যে বিদেশ ভ্রমণ, এয়ার টিকিট, এবং অন্যান্য প্রণোদনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই পরিস্থিতি বেবিচকের শৃঙ্খলা ও সুনামকে বিপদে ফেলতে পারে।
এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মো. মফিদুর রহমান, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান, বেবিচকের বর্তমান প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, “চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পরামর্শকদের দিয়ে কাজ চলানো আইনগতভাবে কমপ্লায়েন্ট নয়। এমন অনিয়ম বিমান নিরাপত্তার জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।” তিনি বলেন, “এই প্রশাসনিক ত্রুটি আইকাওর রেগুলেশন লঙ্ঘনের সুযোগ সৃষ্টি করছে, যা যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।”
টিআইবি (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, “চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কিভাবে পরামর্শকরা কাজ করছেন এবং তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, এটি খতিয়ে দেখা দরকার। এর পেছনে স্পষ্ট কোনো দুরভিসন্ধি রয়েছে। অন্যথায় তারা বিনা পারিশ্রমিকে কেন কাজ করবেন? বিষয়টি শুধু বেবিচকের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, এটি আকাশপথে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও।” তিনি আরও বলেন, “এক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে, বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সগুলো আন্তর্জাতিক রুটে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।”
বেবিচকের অবৈধ পরামর্শকরা এখনো আইকাওর নিয়ম এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন লঙ্ঘন করে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যাত্রী নিরাপত্তা ও বিমান চলাচল খাতের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে। বেবিচকের বর্তমান প্রশাসন এবং নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত না হলে, এটি আন্তর্জাতিক শাস্তি এবং বিশ্বস্ততার ক্ষতি ঘটাতে পারে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |