প্রতিবেদনকারীর নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে জয়ের ৮০তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে চীন। এ উপলক্ষে বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক তিয়ানানমেন স্কোয়ারে এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, “আমাদের থামানো যাবে না এবং আমরা কখনো বলপ্রয়োগকারী শক্তির দ্বারা ভীত হব না।” তিনি শান্তির বার্তা তুলে ধরলেও কুচকাওয়াজে চীনের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতার বহুমাত্রিক প্রদর্শনী হয়।
কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হয় তরল জ্বালানিচালিত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ডিএফ-৫সি। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি এবং প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদে অত্যন্ত কার্যকর।
প্রদর্শনীতে ছিল বিভিন্ন ধরনের মানববিহীন স্থলযান—গোয়েন্দাগিরি ও হামলা চালানো, মাইন অপসারণ ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণে সক্ষম প্রযুক্তি। বিশ্লেষকদের মতে, জটিল অভিযানে (যেমন নগরযুদ্ধ বা নৌ-অবতরণ) এগুলো ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া প্রদর্শিত হয় অত্যাধুনিক ড্রোন বিধ্বংসী সরঞ্জাম। উচ্চশক্তির লেজার অস্ত্র, মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র এবং অ্যান্টি-ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র ও কামান ব্যবস্থা মিলিয়ে একে বিশেষজ্ঞরা আখ্যা দিয়েছেন “আয়রন ট্রায়াড”।
চীন প্রথমবারের মতো একসঙ্গে প্রদর্শন করে ছয় ধরনের অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র: এইচকিউ-১১, এইচকিউ-২০, এইচকিউ-২২এ, এইচকিউ-৯সি, এইচকিউ-১৯ ও এইচকিউ-২৯। এগুলো দীর্ঘ, মাঝারি ও স্বল্প পাল্লায় আকাশ প্রতিরক্ষা দিতে সক্ষম।
এ ছাড়া যুদ্ধজাহাজভিত্তিক চার প্রকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদর্শিত হয়—এইচএইচকিউ-৯সি, এইচকিউ-১৬সি, স্বল্প পাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও এলওয়াই-১ লেজার অস্ত্র।
প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হয় চার ধরনের ওয়াইজে সিরিজের জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, যাদের মধ্যে তিনটি হাইপারসনিক। এর মধ্যে ওয়াইজে-১৫, ওয়াইজে-১৯, ওয়াইজে-১৭ ও ওয়াইজে-২০ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এগুলো যুদ্ধবিমান, জাহাজ ও সাবমেরিনে বহনযোগ্য।
চীন এই কুচকাওয়াজে প্রদর্শন করে স্থল, সমুদ্র ও আকাশভিত্তিক কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থা—জিংলেই-১ আকাশভিত্তিক দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, জুলাং-৩ সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, ডংফেং-৬১ এবং ডংফেং-৩১ স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র।
কুচকাওয়াজে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি চীন শান্তি ও নিয়মভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে চীন এখন বিশ্বের ক’টি দেশের মধ্যে অন্যতম, যাদের হাতে পূর্ণাঙ্গ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ সক্ষমতা রয়েছে।
গ্লোবাল টাইমস
চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষণ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |