| বঙ্গাব্দ

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান: উত্থান, সংস্কার ও বিতর্ক

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-09-2025 ইং
  • 3348176 বার পঠিত
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান: উত্থান, সংস্কার ও বিতর্ক
ছবির ক্যাপশন: সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

বাদশাহ সালমানের ক্ষমতায় ওঠার পর সৌদি আরবে মোহাম্মদ বিন সালমানের উত্থান ও বিতর্ক

প্রতিবেদনকারীর নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর ২০১৫ সালে বাদশাহ হন সালমান বিন আবদুল আজিজ। প্রথমে তিনি পুত্র মুকরিন বিন আবদুল আজিজকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করলেও মাত্র তিন মাসের মাথায় তাকে সরিয়ে দেন। ওই আসনে বসানো হয় মোহাম্মদ বিন নায়েফকে। পাশাপাশি ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হয় মাত্র ২৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমানকে, যিনি আজ এমবিএস নামে পরিচিত।

ক্ষমতার পথে ওঠানামা

সৌদি রাজনীতিতে প্রায় অচেনা এমবিএস খুব দ্রুত প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পরপরই নিজেকে বাদশাহর দ্বাররক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যে উঠে এসেছে, তিনি বাবাকে ধীরে ধীরে পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করতে শুরু করেছিলেন। এমনকি নিজের মা ও দুই বোনকে গৃহবন্দি করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।

ইয়েমেন যুদ্ধ ও সমালোচনা

২০১৫ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেই ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন এমবিএস। শুরুতে দেশজুড়ে এ পদক্ষেপ জনপ্রিয় হলেও দ্রুতই তা সৌদি আরবের জন্য কূটনৈতিক ও মানবিক সংকট তৈরি করে। আন্তর্জাতিক মহলে এটিকে তার পররাষ্ট্রনীতির বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়।

ক্রাউন প্রিন্স হওয়ার কাহিনি

২০১৭ সালে প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফকে নাটকীয়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করে এমবিএসকে ক্রাউন প্রিন্স করা হয়। পরে নায়েফ গৃহবন্দি হন। রয়্যাল কোর্ট থেকে বলা হয়, ‘জাতীয় স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত’, তবে তাকে ড্রাগে আসক্ত বলে অপসারণের কথাও প্রচার করা হয়েছিল।

সংস্কার ও স্বাধীনতার বার্তা

তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের মন জয় করতে এমবিএস কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেন। ২০১৮ সালে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি এবং পোশাকের ক্ষেত্রে শিথিলতা আনেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি অর্থনৈতিক কারণে নেওয়া হয়েছিল, যাতে নারীরা পুরুষ অভিভাবক ছাড়াই কাজ করতে পারেন।

শুরা প্রথার অবসান

সৌদি রাজপরিবারে বহুদিন ধরে প্রচলিত শুরা বা পরামর্শ প্রথার অবসান ঘটান এমবিএস। তিনি এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা জোরদার করেন। সমালোচনা ও প্রতিবাদের প্রতি সহনশীল নন বলেই আন্তর্জাতিক মহল মনে করে।

বিলাসিতা ও বিতর্ক

বিলাসবহুল ইয়ট, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির চিত্রকর্ম কেনা, এবং প্রিন্স ও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক গ্রেফতার—সব মিলিয়ে এমবিএস বিতর্কিত হয়ে ওঠেন। ২০১৭ সালে দুর্নীতির অভিযোগে শতাধিক প্রিন্স ও ব্যবসায়ীকে আটক করে রিয়াদের রিটজ কার্লটন হোটেলে রাখা হয়। পরবর্তীতে বিপুল অর্থ জরিমানা আদায়ের পর মুক্তি দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক ঝড়: খাসোগি হত্যাকাণ্ড

২০১৮ সালে তুরস্কে সৌদি দূতাবাসের ভেতরে সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন এমবিএস। সিআইএ তদন্তে উঠে আসে, হত্যার নির্দেশ এমবিএসের কাছ থেকেই এসেছিল। তবে তিনি সরাসরি দায় অস্বীকার করলেও ‘সৌদি নেতৃত্ব হিসেবে দায় আমার’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এ ঘটনায় সৌদি আরবের ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আজকের এমবিএস

বর্তমানে সৌদি আরবজুড়ে মোহাম্মদ বিন সালমানের পোস্টার, প্রচারণা ও শ্লোগান দেশটির ভবিষ্যৎ শাসক হিসেবে তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১৯৮৫ সালে জন্ম নেওয়া এমবিএস বিদেশে পড়াশোনা করেননি, সেনাবাহিনী বা বিমানবাহিনীরও সদস্য ছিলেন না। অথচ আজ তিনি সৌদি আরবের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক।


সূত্র

  1. ডেভিড বি. ওটাওয়ে, Saudi Arabia in Transition

  2. বেন হাবার্ড, MBS: The Rise to Power, Mohammed bin Salman

  3. রয়টার্স, নিউইয়র্ক টাইমস ও বিবিসি প্রতিবেদন

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency