নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
সিলেটের আম্বরখানা মৌজার কালামাঠ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় ৮ একর জমি গোপনে খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক ও বর্তমানে ওএসডি কাজী এমদাদুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে খুশি করতে স্থানীয় কিছু নেতাকে এই জমি লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়েছিলেন।
সিলেট শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এ জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে মামলায় পাউবোর মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে আদালতের রায় ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদ অভিযান না চালিয়ে তৎকালীন ডিসি কাজী এমদাদুল ইসলাম প্রভাবশালীদের সঙ্গে গোপনে সমঝোতায় যান। এ সময় বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও সমর্থন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের বিরুদ্ধে।
গত বছরের ৩ নভেম্বর পাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) এস এম অজিয়র রহমান পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, ১৯৬৩ সালে এল এ কেস নং ১০/৬৩-৬৪ অনুযায়ী প্রায় ১৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। অথচ এ জমির মধ্যে ৮ একর জেলা প্রশাসক খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার কার্যক্রম শুরু করেন এবং এ নিয়ে এলএ রিজিউম মামলাও (নং ০২/২০১৯) চালু করেন। পাউবো, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও মন্ত্রণালয়ের একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি কার্যক্রম চালিয়ে যান।
উচ্চ আদালতও এ জমি ফেরত দেওয়ার দাবি খারিজ করে দেন। ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর হাইকোর্ট রায়ে বলেন, “অধিগ্রহণকৃত জমি অব্যবহৃত থাকলেও ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।”
পাউবোর নথি অনুযায়ী, কালামাঠ এলাকায় অধিগ্রহণকৃত জমিতে ভবিষ্যতে প্রধান প্রকৌশলীর বাসভবন, অফিস ভবন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, অফিসার্স ক্লাব, হাওর গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ওয়ারপো ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, জমির প্রতি প্রভাবশালীদের দীর্ঘদিনের নজর রয়েছে। কাজী এমদাদুল ইসলাম তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেন এবং নথিপত্র সরাসরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতেন, যাতে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মোমেন নজরদারি করতে পারেন। উদ্দেশ্য ছিল প্রভাবশালীদের নামে জমি বরাদ্দ দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক এনায়েত উল্লাহ বলেন, “পাউবোর নামে অধিগ্রহণকৃত জমি জেলা প্রশাসক কীভাবে অপ্রয়োজনীয় বলে খাস খতিয়ানে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তা রহস্যজনক। বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে।”
বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ বলেন, “তৎকালীন জেলা প্রশাসক কেন এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন তা খতিয়ে দেখব। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে সাবেক ডিসি কাজী এমদাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ওএসডি হওয়ার পর থেকে তিনি নিজেকে আড়াল রেখেছেন। অন্যদিকে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে কাজী এমদাদুল ইসলাম রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন, যা ব্যাপকভাবে বিতর্কিত হয়। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিরোধীরা ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলে। সেই প্রেক্ষাপটে এই ভূমি কেলেঙ্কারি ও সাবেক মন্ত্রীর নাম ওঠায় বিষয়টি নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও আমলাদের যোগসাজশে সরকারি জমি দখল বা খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্তির ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু আদালতের স্পষ্ট রায় ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এমন উদ্যোগ নেওয়া প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক নজির। ১৯৭২ সালের সংবিধানে রাষ্ট্রীয় সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুগান্তর অনুসন্ধান, সরকারি নথিপত্র ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার
উচ্চ আদালতের রায়: রিভিউ পিটিশন নং ৫১২/২০১৭, রায় ঘোষণা ৮ নভেম্বর ২০১৮
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পত্র (৩ নভেম্বর ২০২৩)
বাংলাদেশ প্রতিদিন অনুসন্ধান টিম
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |