আঠারো বছর আগে চাকরিচ্যুত হওয়া ৮৫ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, চাকরি হারানো কর্মকর্তাদের সব ধরনের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ফেরত দিতে হবে।
আপিল বিভাগ রায়ে উল্লেখ করেছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা ছিল স্বাধীন, সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর অসাংবিধানিক হস্তক্ষেপ।
সোমবার (১৮ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই রায় দেন। এর আগে ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর দেওয়া আপিল বিভাগের রায় এবং চারটি পৃথক রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হলো।
২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া এই ৮৫ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
২০১০ সালের ১২ এপ্রিল প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল রায়ে তাদের পুনর্বহারের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের প্রেক্ষিতে একই বছরের ২৫ জুন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই রায় স্থগিত করে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলে।
পরবর্তীতে, ২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ সরকারের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনালের রায় কার্যকর স্থগিত রাখে।
২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ পুনর্বহারের ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল করেছিল। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে ৮৫ জন কর্মকর্তার পক্ষে একটি আপিল এবং চারটি রিভিউ আবেদন করা হয়। সর্বশেষ শুনানি শেষে তাদের পক্ষে রায় আসে।
আজকের শুনানিতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহউদ্দিন দোলন, প্রবীর নিয়োগী ও মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং আইনজীবী মুহাম্মদ খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া।
এই রায়কে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রশাসনে একটি মাইলফলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ সংক্রান্ত স্বাধীন ক্ষমতা পুনঃনিশ্চিত হলো। একই সঙ্গে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আইনি লড়াইয়ে থাকা কর্মকর্তারা চাকরি ও সুবিধা ফিরে পাবেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ বা বরখাস্ত—দুটোই যে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে, এ রায়ে তা স্পষ্ট করা হলো।
সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগ রায় (১৮ আগস্ট ২০২৫), আইনজীবীদের বক্তব্য
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |