| বঙ্গাব্দ

আলাস্কা শীর্ষ বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প-পুতিনের অচলাবস্থা—শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-08-2025 ইং
  • 4348265 বার পঠিত
আলাস্কা শীর্ষ বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প-পুতিনের অচলাবস্থা—শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
ছবির ক্যাপশন: আলাস্কা বৈঠকে ট্রাম্প-পুতিন

আলাস্কা শীর্ষ বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প-পুতিনের অচলাবস্থা—শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে অবস্থিত এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন ঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শীর্ষ বৈঠক ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান না এনে বরং নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় নেতা বৈঠককে “খুবই ফলপ্রসূ” হিসেবে উল্লেখ করলেও যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তির কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি।

বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়েছিল সৌহার্দ্যের প্রদর্শনী। দুই নেতা নিজ নিজ বিমান থেকে নেমে লাল গালিচা বিছানো পথে মাঝপথে মিলিত হন, করমর্দন ও সৌজন্য বিনিময় করেন, এমনকি ট্রাম্প পুতিনের হাতের ওপর মৃদু চাপড়ও দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ।

তবে এ সৌহার্দ্যের আড়ালে ছিল প্রবল রাজনৈতিক বিরোধিতা। বৈঠকের আগে অ্যাঙ্কোরেজ শহরে বিক্ষোভ হয়েছে ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত পুতিনের উপস্থিতির কারণে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আলোচনার বাইরে রাখার সিদ্ধান্তেরও তীব্র সমালোচনা করেন বিক্ষোভকারীরা। প্ল্যাকার্ড, ইউক্রেনের পতাকা ও ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানে মুখর ছিল শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বৈঠকের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৯৫০ দশক থেকে শুরু করে ঠান্ডা যুদ্ধ, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন (১৯৯১), এবং ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল—সবকিছু মিলিয়ে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রতিটি অধ্যায়ই কৌশলগত হিসাব-নিকাশে ভরা। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। ২০২৫ সালে এসে আলাস্কার এই বৈঠক ছিল দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কমানোর একটি বিরল সুযোগ।

তবে ইতিহাসের অভিজ্ঞতা বলছে, কেবলমাত্র উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক দিয়ে গভীর ভূরাজনৈতিক সংকটের সমাধান হয় না। ১৯৭২ সালে নিক্সন-ব্রেজনেভ বৈঠক যেমন কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস চুক্তি (SALT) আনতে পেরেছিল, তেমন একটি নির্দিষ্ট ফলাফল এ বৈঠক থেকে আসেনি।

অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাবনা

বৈঠকের ফলাফলহীনতার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। মার্কিন ও রুশ ব্যবসায়ী মহলের কিছু অংশ বৈঠককে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা হিসেবে দেখলেও, বিশ্লেষকদের মতে রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া অর্থনৈতিক উদ্যোগ টেকসই হবে না।

বিশ্লেষণ

এই বৈঠক কূটনৈতিক তাপমাত্রা কিছুটা কমালেও বাস্তব সমাধানের দিকে বড় কোনো অগ্রগতি আনেনি। ইউক্রেন ইস্যুতে জেলেনস্কির অংশগ্রহণ বাদ দেওয়া এবং কোনো লিখিত চুক্তি না হওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। আগামী মাসগুলোতে এই আলোচনার ধারাবাহিকতা এবং বাস্তব পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে—এটি কেবল রাজনৈতিক প্রদর্শনী ছিল নাকি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির সূচনা।


সূত্র:
রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ওয়াশিংটন পোস্ট, টাইম ম্যাগাজিন, দ্য টেলিগ্রাফ

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency