| বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার বিচার হলেও হয়তো আর ফিরবেন না: আসিফ নজরুলের বিস্ফোরক মন্তব্য

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-08-2025 ইং
  • 3498861 বার পঠিত
শেখ হাসিনার বিচার হলেও হয়তো আর ফিরবেন না: আসিফ নজরুলের বিস্ফোরক মন্তব্য
ছবির ক্যাপশন: আসিফ নজরুলের বিস্ফোরক মন্তব্য

হয়তো আমরা তাঁকে আর কখনো পাব না”—অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টার মন্তব্যে আলোড়ন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশকাল: ৫ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন ডেস্ক

জুলাই অভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আসিফ নজরুলের বক্তৃতা

রাজধানীর কারওয়ানে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন—

“আমার ধারণা, তাঁর শেষ দিন ভারতেই কাটবে। তাঁকে হয়তো আমরা আর কখনো পাব না।”

এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেন, ভবিষ্যতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার হলেও তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা কম।

“মানুষের ঘৃণাই হবে তাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় রায়”

অধ্যাপক নজরুল আরও বলেন—

“বাংলাদেশের মানুষের মনে যে ঘৃণা নিয়ে সে বেঁচে থাকবে, সেটাও যদি আমাদের অর্জন হয়, সেটাও কম নয়।”

এই মন্তব্যে দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, অপমান, এবং সহ্য করা নির্যাতনের কথা উঠে আসে।

তিনি বলেন—

“এত ঘৃণা মানুষের, এত কষ্ট, এত ক্ষোভ। এই ঘৃণা থেকে, ক্ষোভ থেকে, ক্রোধ থেকে আশা আছে, সংস্কারের মাধ্যমে এ রকম শাসক যেন এ দেশে আর তৈরি না হয়।”

এখানে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রাজনৈতিক সংস্কারের দিকে আহ্বান জানান।

“পুলিশ বাহিনীকে বানানো হয়েছে দানবীয়, বর্বর বাহিনীতে”

সবচেয়ে স্পষ্ট ও তীব্র ভাষায় আসিফ নজরুল সমালোচনা করেন দেশের পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার।

“পুলিশকে যে এ রকম একটা অমানুষ, বেপরোয়া, ভয়াবহ বাহিনীতে রূপান্তর করেছে, সে কত বড় অমানুষ।...আমার ট্যাক্সের টাকায় চলা এই বাহিনীকে ইসরায়েলি বাহিনীর মতো করে বানানো হয়েছে, যেটা আমাকে এভাবে খুন করতে পারে।”

তাঁর ভাষ্যে বারবার উঠে এসেছে এক ধরনের ‘রাষ্ট্রীয় বর্বরতার’ চিত্র, যা আধুনিক রাষ্ট্রের মূলনীতির পরিপন্থী।

১৯৫০–২০২৫: পুলিশের ভূমিকায় ধারাবাহিকতা ও বিচ্যুতি

বাংলাদেশের ইতিহাসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক দমনযন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা নতুন কিছু নয়। নিচে এর একটি ঐতিহাসিক সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:

  • ১৯৫২: ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের গুলি করে হত্যা করেছিল পুলিশ।

  • ১৯৭২–৭৫: রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে ব্যবহার করা হয়।

  • ২০০১–২০০৬: অপারেশন ক্লিনহার্টসহ নানা অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।

  • ২০১৩: শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচিতে রাতের আঁধারে পুলিশি অভিযান—বিতর্কিত হয় বিশ্বজুড়ে।

  • ২০১৮: কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে কিশোর ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তার এবং আইটি আইন প্রয়োগ।

২০২১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযান এবং ভিন্নমত দমন রাষ্ট্রব্যবস্থায় গভীর প্রশ্ন তুলেছিল।

আন্তর্জাতিক তুলনা: পুলিশ বাহিনী বনাম জনগণ

অধ্যাপক নজরুলের বক্তব্যে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশের পুলিশের তুলনা অনেকে চমকে উঠলেও, বাস্তবে এই অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে—

“বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং টর্চার একটি চিহ্নিত ট্রেন্ড।”

অন্যদিকে আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনেও বারবার এসেছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুলিশ বাহিনী ব্যবহারের অভিযোগ।

গণআন্দোলন থেকে গণবিচার: রাষ্ট্র বদলের লক্ষ্যে জনমতের তীব্রতা

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পতনের এক বছর পরও মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি—বরং তা আরও প্রজ্ঞাময় ও কাঠামোগত রূপ নিচ্ছে। এক সময়ের প্রগতিশীল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এভাবে "চূড়ান্ত ঘৃণার রাজনীতি" চালু হয়ে যাওয়াই হয়তো বর্তমান রাষ্ট্র ও সমাজের সবচেয়ে বড় সংকেত।

অধ্যাপক আসিফ নজরুলের বক্তৃতা তারই প্রতিফলন।

উপসংহার: বিচারের সীমা নয়, ইতিহাসই চূড়ান্ত রায়

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশে ফিরে বিচার হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ইতিহাস তাকে বিচার করেই ফেলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

১৯৫০-এর দশক থেকে আজ পর্যন্ত যেসব নেতৃবর্গ দেশের জন্য ‘নতুন সকাল’ এনে দিতে চেয়েছিলেন, তারা কেউই স্থায়ীভাবে ক্ষমতার স্বাদ পাননি—আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বিএনপি, কিংবা সেনাসমর্থিত সরকার।

ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্য সেই ধারাবাহিকতায় নতুন একটি পৃষ্ঠা—যেখানে ইতিহাস, ঘৃণা, ন্যায়বিচার ও জনতার আকাঙ্ক্ষা একই স্রোতে মিশে গেছে।

সূত্র:

  1. বর্ষপূর্তি বক্তব্য – ড. আসিফ নজরুল, ৫ আগস্ট ২০২৫, কারওয়ান

  2. Human Rights Watch রিপোর্ট – বাংলাদেশ ২০২৩

  3. Amnesty International – Bangladesh Country Report, ২০২3

  4. বাংলাদেশ পুলিশের দমননীতি ও ইতিহাস – ড. আখতার হোসেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ২০২২

  5. যুগান্তর নিউজ আর্কাইভ, ২০২৪

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency