| বঙ্গাব্দ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা: তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-08-2025 ইং
  • 5903903 বার পঠিত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা: তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম
ছবির ক্যাপশন: তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রশিবিরসহ নানা শক্তির সম্মিলিত ভূমিকা: তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
📅 তারিখ: ৪ আগস্ট ২০২৫
📰 বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিবেদন

জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, বাম ছাত্র সংগঠন, মাদ্রাসা ছাত্র, শ্রমজীবী মানুষ, নারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সম্মিলিতভাবে অংশ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

সোমবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন,
“জুলাই আমাদের সবার। দলীয় বা আদর্শিক বিরোধের জেরে এই গণ-অভ্যুত্থানে কারো অবদান অস্বীকার করা উচিত নয়।”

ছাত্রশিবিরের ‘কো-অর্ডিনেশন’ ও ‘জনশক্তি’ ছিল উল্লেখযোগ্য

মাহফুজ আলম বলেন,
“এখানে শিবির তাদের জনশক্তি ও সমন্বয়ের দক্ষতা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে অভ্যুত্থানকে এগিয়ে নিয়ে গেছে, কখনো কখনো নেতৃত্ব দিয়েছে।”

তথ্য উপদেষ্টার এই বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারণ এর আগে জামায়াত-শিবিরের ভূমিকাকে সরকার ও বামপন্থী মহল বরাবরই সন্দেহের চোখে দেখেছে। তবে মাহফুজ আলম মনে করেন—গণআন্দোলন জনগণের এবং সেখানে অংশগ্রহণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, পরিচয়ের নয়।

ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও বাম ছাত্র সংগঠনও রেখেছে বলিষ্ঠ অবদান

তাঁর ভাষ্যমতে,

  • ছাত্রদল ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফ্যাসিস্ট প্রতিরোধ গড়ে তোলে

  • ছাত্র অধিকার পরিষদ কোটা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সারাদেশে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে

  • ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলো বয়ান ও ব্যানার ধরে রাখে এবং সাহস জোগায় জনগণকে

  • আলেম ও মাদ্রাসা ছাত্র রাজপথে দীর্ঘসময় লড়াই করে—বিশেষ করে যাত্রাবাড়ীর ঘটনাগুলো তার প্রমাণ

নারী, শ্রমজীবী ও অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ

মাহফুজ আলম বলেন,
“নারীরা শুধু রাজপথে অবস্থান করেনি, বরং আহতদের সেবা করেছে, মায়েরা ও বোনেরা কারফিউর দিনেও রাস্তায় সাহস জুগিয়েছেন।”

শ্রমজীবী, প্রাইভেট শিক্ষার্থী, রিক্সাচালক ও নিম্নবিত্ত জনগণ এই আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও অনেক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি ও ছাত্রলীগের অংশও যুক্ত

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন,
“বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি ও সামাজিক সংগঠনগুলো অভ্যুত্থানের পক্ষে নীরব অথচ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।”
এমনকি ছাত্রলীগের একটি অংশ বিদ্রোহ করে এই গণজোয়ারে অংশ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইতিহাসের ধারায় এই আন্দোলনের স্থান কোথায়?

বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র ও তরুণদের নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থানের উজ্জ্বল উদাহরণ রয়েছে।

  • ১৯৬৯ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও গণঅভ্যুত্থান

  • ১৯৭১ সালে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অবদান

  • ১৯৯০ সালে এরশাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য

  • ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন

  • ২০২৫ সালের জুলাই, সেই ধারার সর্বশেষ সংযোজন

প্রত্যেকটি আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ছাত্রশক্তি ও তৃণমূলের সাধারণ মানুষ।

তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য: রাজনৈতিক উদারতার ইঙ্গিত, নাকি নতুন রাজনীতির বার্তা?

মাহফুজ আলমের এই বক্তব্য বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
কেউ বলছেন, এটি হচ্ছে একটি 'ন্যারেটিভ পাল্টানোর কৌশল', যেখানে শিবিরসহ বিভিন্ন বিতর্কিত শক্তিকে ‘নবগঠিত বাংলাদেশে’ পুনর্বাসনের ভূমিকা দেওয়া হচ্ছে।
আবার অনেকে বলছেন, এই অভ্যুত্থান সত্যিকার অর্থে একটি সমন্বিত গণআন্দোলন ছিল এবং সেখানে সবার ভূমিকাই মূল্যায়ন করা উচিত।


সুত্র:

  • মাহফুজ আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, পোস্ট তারিখ: ৪ আগস্ট ২০২৫

  • যুগান্তর, ৪ আগস্ট ২০২৫

  • গণঅভ্যুত্থান ইতিহাস সংকলন (১৯৫০–২০২৫), বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলনের নথিপত্র

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency