প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
১ আগস্ট ২০২৫ | সূত্র: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ
সরকারি বাসা বরাদ্দ পাওয়ার পরও নির্ধারিত সময়সীমায় দখল না নেওয়ার প্রবণতা শুধু সাম্প্রতিক প্রশাসনিক শৈথিল্য নয়—বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এক ধরনের আমলাতান্ত্রিক অনিয়মের বহিঃপ্রকাশ। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবার এই উদাসীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে বাসা দখলে নিতে হবে—এমন নির্দেশনাই দিয়েছে তারা। যারা দখলে নিতে অনিচ্ছুক, তাদেরও দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে সরকারি আবাসন ব্যবস্থাপনার গোড়াপত্তন হয় পাকিস্তান আমলে (১৯৫০ দশকের গোড়ার দিকে), যখন ঢাকাকে পূর্ব বাংলার রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছিল। সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয় ও তৎকালীন গভর্নর হাউসকে ঘিরে সীমিত সংখ্যক সরকারি বাসভবনের নির্মাণ হয়।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে (১৯৭২–১৯৮০), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে পুরনো অব্যবস্থাপনার জায়গায় নতুন বাসাবাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে এই পরিকল্পনা থেমে যায়, এবং আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতা তৈরি হতে থাকে।
যারা নিয়মমাফিক বাসা গ্রহণ করছেন না, তারা অনেক সময় অন্য বাসা চেয়ে আবেদন করছেন অথবা বরাদ্দ বাতিলের অনুরোধ জানাচ্ছেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনেক বাসা খালি পড়ে থাকে—সরকার রাজস্ব হারায়, অন্য কর্মকর্তারাও সুবিধা পান না।
২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা শহরের বিভিন্ন সরকারি আবাসনে প্রায় ১৪ শতাংশ বাসা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে খালি পড়ে ছিল। অথচ সেই বাসাগুলোর জন্য রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বাবদ প্রতি বছর সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়।
স্বাধীনতার পর থেকে বারবার প্রশাসনিক সংস্কারের কথা বলা হলেও আবাসন ব্যবস্থার মতো মৌলিক সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান আজও হয়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ২০০৯ সাল থেকে যেসব মেগা প্রকল্পে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা মেট্রোরেল উল্লেখযোগ্য হলেও, প্রশাসনিক আবাসন সংস্কার সেভাবে অগ্রাধিকার পায়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “দেশ এখন উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, সম্পদের ব্যবহার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা—এই তিনটি বিষয়ের প্রতি নজর না দিলে কাঙ্ক্ষিত কাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব নয়।” তার মন্তব্য এই আবাসন সংকটের প্রেক্ষাপটে খুবই প্রাসঙ্গিক।
অতীতে বহুবার সরকারি বাসা বরাদ্দের নিয়মিত গাইডলাইন তৈরি হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। এখন প্রশ্ন হলো, এবারের নির্দেশনায় কি দৃষ্টান্তমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে?
বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু নির্দেশনা দিলেই হবে না—সাথে থাকতে হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, পর্যবেক্ষণ টিম এবং একটি বাসা দখল না করলে কতদিন পর্যন্ত বরাদ্দ থাকবে সেটার সীমা নির্ধারণ।
২০২৫ সালের ২৭ জুলাই উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে—বাসা খালি থাকলেও বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি দখল নিচ্ছেন না। কেউ কেউ ৩০–৪৫ দিন পর এসে বরাদ্দ বাতিল করছেন, যা এক ধরনের ‘নীরব অপচয়’। এই চিঠি কেবিনেট সচিব, সিএজি, সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকল অফিসে পাঠানো হয়েছে।
এই চিঠির মাধ্যমে সরকারের একটি স্পষ্ট বার্তা রয়েছে—সরকারি সম্পদের অপচয় আর মেনে নেওয়া হবে না।
১৯৫০–২০২৫ সাল পর্যন্ত সরকারি আবাসন ব্যবস্থায় ধারাবাহিক নীতির অভাব এবং দুর্বল জবাবদিহিতা একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির পরও যদি আবাসন ব্যবস্থাপনায় এই ধরনের শৈথিল্য চলতে থাকে, তাহলে তা রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার প্রশ্ন তোলে। এখনই সময় পুরনো ধাঁচ ভেঙে স্মার্ট ও প্রযুক্তি-নির্ভর বাসা বরাদ্দ ও দখল নীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় চিঠি (জুলাই ২০২৫)
পরিকল্পনা কমিশন, বার্ষিক প্রশাসনিক প্রতিবেদন (২০২৩)
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংক্রান্ত বিশ্লেষণ, ২০২৪
ড. ইউনূসের প্রেস বিবৃতি, জুলাই ২০২৫
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |