| বঙ্গাব্দ

রাউজানে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৪০, আকবর খোন্দকার আহত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-07-2025 ইং
  • 4448866 বার পঠিত
রাউজানে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৪০, আকবর খোন্দকার আহত
ছবির ক্যাপশন: আকবর খোন্দকার আহত

রাউজানে বিএনপির রক্তাক্ত দ্বন্দ্ব: অভ্যন্তরীণ ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ পরিণত চট্টগ্রাম

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২৯ জুলাই ২০২৫ | বাংলাদেশ প্রতিদিন

সূত্র:

  1. চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সূত্র, ২৯ জুলাই ২০২৫

  2. রাউজান থানা ও প্রত্যক্ষদর্শী বিবৃতি

  3. “বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা: ১৯৭৫–২০২৫”, গবেষণা একাডেমি (২০২5)

বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার সমর্থকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: গুলিবিদ্ধ অন্তত ৪০

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সর্ত্তারঘাট এলাকায় মঙ্গলবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন গোলাম আকবর নিজেও।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোলাম আকবর খোন্দকার প্রয়াত নেতা মহিউদ্দিন আহমদের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সড়কপথে যাচ্ছিলেন, আর গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের ছিল পূর্বনির্ধারিত মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা। এই দুই কর্মসূচি যখন একই এলাকায় এসে মুখোমুখি হয়, তখন শুরু হয় পাথর, লাঠি, এমনকি গুলিবর্ষণও

রাজনৈতিক আধিপত্যের শিকড় কোথায়?

স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর রাউজানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে ঘিরেই এই সংঘর্ষের উৎস। গত এক বছরে এই দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১০টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং ১৫টির বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

সময়কালসংঘর্ষ সংখ্যানিহতগুলিবিদ্ধ
আগস্ট ২০২৪ – জুলাই ২০২৫১০০+১৫৩০০+
এলাকাবাসীর মতে, বিএনপির দুই অংশই রাউজানকে ‘দখল’ করে রাখতে চায় আগাম রাজনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করতে। ফলে জাতীয় দলীয় পরিচয় এখানে গৌণ, আধিপত্যই মুখ্য।

কারা আহত? একপক্ষীয় নয়—উভয় পক্ষেই লাশ ও রক্ত

গোলাম আকবর খোন্দকারের পক্ষে আহত:

  • আনোয়ার হোসেন, নাসিম উদ্দিন চৌধুরী, অর্জুন কুমার নাথ, আসিকুর রহমান, সাজ্জাদ হোসেন, আওরঙ্গজেব সম্রাট, নাঈম উদ্দিন মিনহাজ, মোহাম্মদ হুমায়ুনসহ প্রায় ২০ জন

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে আহত:

  • হেলাল, তাফসি, গাজী সুলতান, রেওয়াজ উদ্দিন, মিরাজ, রিয়াদ, শাহাদাত মির্জা, রিবন, আমির, সুমন, মুন্না, রিপন, সোহেলসহ প্রায় ২০-২৫ জন

গাড়িবহরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর: রাউজান হয়ে ওঠে যুদ্ধক্ষেত্র

সামনে-পেছনের কাঁচ ভেঙে গেছে গোলাম আকবরের পাজেরো জিপের। কয়েকটি মোটরসাইকেলও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় বের হয়ে আসেন আকবর নিজেই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন,

“ঘটনার পূর্বাভাস পেয়ে জেলা পুলিশের এসপিকে জানিয়েছিলাম। পুলিশ আমাকে আশ্বস্ত করেছিল। কিন্তু হামলা ঠেকানো গেল না।”

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দাবি: আমি জানতামই না!

অপরপক্ষে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী দাবি করেন,

“আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। কিছুই জানি না।”

কিন্তু তার অনুসারী ফিরোজ আহমেদ বলেন,

“জুলাই–আগস্ট অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ভণ্ডুল করতেই আমাদের শোভাযাত্রায় হামলা হয়েছে। বহিরাগত সন্ত্রাসীরা নিয়ে এসে গুলি চালানো হয়েছে।”

পুলিশ বলছে—‘দুই পক্ষই উত্তেজিত ছিল, আমরা নিয়ন্ত্রণ করেছি’

রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন,

“একপক্ষ কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছিল, অন্যপক্ষ শোভাযাত্রায়। মুখোমুখি হওয়ায় সংঘর্ষ হয়। আমাদের টিম এসে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেয়।”

সাংগঠনিক ব্যর্থতা নাকি রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি?

বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ নতুন নয়। দলটির ইতিহাসে নেতৃবৃন্দের বিভক্তি, স্থানীয় স্তরে আধিপত্য বিস্তার, আর সমান্তরাল কমিটির মাধ্যমে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব দলকে প্রায়ই রক্তাক্ত করেছে।

বিশ্লেষক ড. শাহানাজ সুলতানা বলেন,

“বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোতে ভেতরের গণতান্ত্রিক কাঠামো না থাকায়, নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ অপরিহার্য হয়ে ওঠে।”

তিনি আরও বলেন,

“এই ধরনের সহিংসতা দলের ভবিষ্যৎ নয়, রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।”

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency