প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
প্রকাশের তারিখ: ২৮ জুলাই ২০২৫
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
নেদারল্যান্ডস সরকার প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে বিদেশি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমন সমন্বয়কারী সংস্থা (NCTV) এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ইসরায়েল ‘সরকারি কূটনৈতিক মাধ্যম’ এড়িয়ে ডাচ সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের কাছে প্রচারপত্র ও নথি সরবরাহ করে জনমত প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আয়াক্স ও ম্যাকাবি তেল আবিব ক্লাবের মধ্যে অনুষ্ঠিত ফুটবল ম্যাচে সংঘটিত দাঙ্গা কেন্দ্র করে ইসরায়েলি পক্ষ ডাচ কর্তৃপক্ষকে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে ঘটনাকে ‘ইহুদিবিরোধী সহিংসতা’ হিসেবে প্রচার করে।
ওই সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। ভিডিও ফুটেজে ইসরায়েলি সমর্থকদের হামলা, হুমকি ও আরব-বিরোধী বর্ণবাদী স্লোগান ধরা পড়ে। ইসরায়েল পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইটি উদ্ধারকারী বিমান পাঠায় এবং এটি আন্তর্জাতিকভাবে ইহুদি নিরাপত্তার ইস্যুতে রূপ দিতে চায়।
আমস্টারডামের মেয়র ফেমকে হালসেমা এই ঘটনাকে ‘সংঘবদ্ধ জাতিগত সহিংসতা’ হিসেবে অভিহিত করেন, যদিও পরে তিনি তার বক্তব্য ফিরিয়ে নেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েল অনুমোদিত কিছু সংস্থা ডাচ নাগরিকদের সম্পর্কে ‘অস্বাভাবিক ও অবাঞ্ছিত ব্যক্তিগত তথ্য’ সংগ্রহ করেছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হুমকি, হয়রানি এমনকি শারীরিক আক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছে নেদারল্যান্ডসের বিচার, নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদনটি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট।
এই পরোয়ানার পর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ICC-কে তদন্ত থেকে সরিয়ে আনতে জোরালো চাপ ও হুমকি দিতে থাকে। এনসিটিভি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই চাপ আদালতের স্বাধীনতা ব্যাহত করতে পারে।
যেখানে এক সময় ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল নেদারল্যান্ডস, এখন তারাই গাজায় যুদ্ধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অবরোধ নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচক হয়ে উঠেছে। আয়ারল্যান্ড ও স্পেনের সঙ্গে একযোগে তারা ইইউ–ইসরায়েল সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হেগের আপিল আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, নেদারল্যান্ডস যেন ইসরায়েলের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ রপ্তানি বন্ধ করে, কারণ এগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনে ব্যবহার হতে পারে। তবে আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও নেদারল্যান্ডস এখনো গোপনে রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে বলে তথ্য রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নেদারল্যান্ডসের এই অবস্থান ইউরোপে এক নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। যেখানে গাজা যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে ‘অন্ধ সমর্থন’ থেকে দায়িত্বশীল সমালোচনার পথে হাঁটছে পশ্চিমা দেশগুলো। মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দোহাই দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ প্রয়োগ বিশ্বপরিসরে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
ইসরায়েল ও নেদারল্যান্ডসের সম্পর্কের এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। যখন একসময় জোরদার সমর্থন ছিল, এখন সেই দেশ থেকেই আসছে ‘বিদেশি হুমকি’ লেবেল। এটা শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নও বটে।
মিডল ইস্ট আই, ২৬ জুলাই ২০২৫
ডাচ ন্যাশনাল কাউন্টার-টেররিজম রিপোর্ট, এনসিটিভি, ২০২৫
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |