| বঙ্গাব্দ

৪ দিন ধরে বিচ্ছিন্ন সেন্ট মার্টিন, খাদ্য সংকটে দ্বীপবাসী

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-07-2025 ইং
  • 3542031 বার পঠিত
৪ দিন ধরে বিচ্ছিন্ন সেন্ট মার্টিন, খাদ্য সংকটে দ্বীপবাসী
ছবির ক্যাপশন: ৪ দিন ধরে বিচ্ছিন্ন সেন্ট মার্টিন

সেন্ট মার্টিনে নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের চতুর্থ দিন: খাদ্য সংকটে ১০ হাজার মানুষ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২৭ জুলাই ২০২৫ | সূত্র: সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ, আবহাওয়া অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন

সাগর উত্তাল, দ্বীপবাসীদের চরম দুর্ভোগ

চার দিন ধরে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌরুটে ট্রলার ও নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দ্বীপে আটকে পড়া প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্বীপের বাসিন্দারা যেমন আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন, তেমনি প্রশাসনও সীমিত বিকল্প নিয়ে কার্যত অসহায়।

আমাবস্যা ও লঘুচাপ: জলমগ্ন বসতি, সাগরে ঢেউয়ের তাণ্ডব

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম জানান,

"আমাবস্যার জোয়ারে পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উঁচুতে উঠছে। দ্বীপের বেশ কিছু ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। পাশাপাশি সাগরের ঢেউয়ে উপকূল ভাঙতে শুরু করেছে।"

এই ধরনের পরিস্থিতি ১৯৭০ সালের ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা পূর্ব-পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশে) প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছিল। ১৯৫০ সাল থেকে উপকূলীয় অঞ্চলে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটেছে, যার সর্বশেষ সংযোজন এই চার দিনের দুর্যোগ।

পণ্যের মজুদ শেষের পথে, জরুরি চালান দাবি

দ্বীপের বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন,

"টানা চার দিন ধরে নৌযান না চলায় চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের মজুদ ফুরিয়ে আসছে। মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।"

তিনি জরুরি ভিত্তিতে সি-ট্রাক ও সি-অ্যাম্বুলেন্স চালুর দাবি জানিয়েছেন, যাতে দ্রুত দ্বীপে খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানো যায়।

প্রশাসন ও আবহাওয়া অফিসের সতর্কতা

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন বলেন,

"বৈরী আবহাওয়ার কারণে সব ধরনের নৌযান চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তা আবার চালু করা হবে।"

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের কারণে সাগর উত্তাল।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অতীত প্রেক্ষাপট: ইতিহাসে সেন্ট মার্টিন

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের আইলায়ও দেখা দিয়েছিল ভয়াবহ সংকট। ১৯৫০–২০২৫ সময়কালে এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী বিচ্ছিন্নতা এবং তীব্র খাদ্যসংকট খুব কমই দেখা গেছে। দ্বীপের প্রাকৃতিক ভঙ্গুরতা এবং নির্ভরযোগ্য লজিস্টিক সাপোর্টের অভাব দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত হয়ে আসছে।

সরকারি দৃষ্টি আকর্ষণ: সমাধান কবে?

এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত দ্বীপবাসীর জীবনের ঝুঁকি ও দুর্ভোগকে গুরুত্ব দিয়ে:

  • জরুরি সি-ট্রাক/সি-প্লেনের ব্যবস্থা করা

  • বিমানবাহিনী বা নৌবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ সরবরাহ

  • সেন্ট মার্টিনে স্থায়ী দুর্যোগ প্রস্তুতি ও উদ্ধারকেন্দ্র স্থাপন

  • বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা ও মৌসুমি খাদ্য সংরক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ

    প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency