| বঙ্গাব্দ

গাজা গণহত্যা বন্ধে বাংলাদেশ-ইরানের আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-07-2025 ইং
  • 5461908 বার পঠিত
গাজা গণহত্যা বন্ধে বাংলাদেশ-ইরানের আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান
ছবির ক্যাপশন: গাজা গণহত্যা বন্ধে বাংলাদেশ-ইরানের আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান

গাজা গণহত্যা বন্ধে যৌথ আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশ-ইরানের

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২৫ জুলাই ২০২৫
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি (ইরান)

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ-ইরান পররাষ্ট্র পর্যায়ের ফোনালাপ

গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় ও ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক ফোনালাপে তারা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। খবরটি নিশ্চিত করেছে ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সি

আলোচনায় উভয় দেশ ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (OIC) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মকে সক্রিয় করতে চায়, যাতে এই গণহত্যার বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্ব এক কণ্ঠে জোরালো অবস্থান নিতে পারে।

আরাগচির বক্তব্য: ‘দখলদারিত্বের ষড়যন্ত্র’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন,

“পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা একটি দখলদার রাষ্ট্রের কৌশল, যা পুরো ফিলিস্তিনকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রের অংশ।”

তিনি গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো, আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ইসরাইলকে প্রতিরোধ, এবং OIC-কে মাঠে সক্রিয় করার ওপর জোর দেন।

তৌহিদ হোসেনের বক্তব্য: ওআইসি’র সক্রিয় ভূমিকা দরকার

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন,

“গাজায় শিশু, নারী ও নিরীহ মানুষদের হত্যাযজ্ঞ একটি মানবসভ্যতার কলঙ্ক। এই সময়ে OIC’র মতো সংগঠনগুলোর কার্যকর হস্তক্ষেপ অত্যাবশ্যক।”

তিনি আরও বলেন,

“ইসরাইলের পক্ষে আন্তর্জাতিক নীরবতা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বৈধতা দিচ্ছে, যা রোধ করতে হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমরা সব সময় নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের পাশে রয়েছি।”

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও গুরুত্ব

ফোনালাপে শুধু গাজা ইস্যুই নয়, বাংলাদেশ-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার ব্যাপারেও আলোচনা হয়
দুই দেশ ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ের পরামর্শ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের ফিলিস্তিন নীতির ধারাবাহিকতা

  • ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়, এমনকি ইসরায়েলকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয়নি আজও।

  • ১৯৮২ সালে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার সময় বাংলাদেশ সরকার জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠায় এবং ওআইসির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির দাবি তোলে।

  • ২০২১ সালের গাজা-ইসরাইল সংঘাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

  • ২০২৫ সালে এই সর্বশেষ পদক্ষেপটি সেই নীতিরই সম্প্রসারিত বাস্তবায়ন, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর আরও সুসংগঠিত হচ্ছে।

উপসংহার

এই ফোনালাপ শুধু কূটনৈতিক নয়—এটি একটি বৈশ্বিক মানবিক বার্তা
যেখানে দুটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গাজায় হত্যা ও অবরোধের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ কণ্ঠ তুলেছে।
ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও OIC’র সক্রিয় ভূমিকা এই সময়ের চাহিদা।
এই অবস্থান শুধু নীতি নয়, বরং একটি মূল্যবোধের প্রকাশ—যেখানে নিপীড়নের বিরুদ্ধে শান্তির পক্ষ নেয় বাংলাদেশ।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency