পিআর পদ্ধতি নিয়ে দ্বিধা বিভাজন: নির্বাচন পেছানোর কৌশল, না গণতন্ত্রের দাবি?
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর (Proportional Representation) নির্বাচনব্যবস্থাকে ঘিরে। জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা কয়েকটি দল পিআরের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিলেও বিএনপি এটিকে ‘নির্বাচন বিলম্বিত করার ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি এখন রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির উপকরণে পরিণত হলেও শেষ পর্যন্ত সমাধান আসতে পারে আলোচনা থেকেই।
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে ভোটের ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ হয়। যদি কোনো দল ১০% ভোট পায়, তাহলে সংসদে ৩০টি আসন পাবে (৩০০ আসনের মধ্যে)।
বর্তমান পদ্ধতি: প্রত্যক্ষ ভোটে ব্যক্তি প্রার্থী নির্বাচিত হন।
পিআর পদ্ধতি: ভোট পড়ে দলের পক্ষে, আসন বণ্টন হয় মোট ভোটের অনুপাতে।
জামায়াত শনিবারের সমাবেশে ঘোষণা দিয়েছে, পিআর না মানলে রাজপথে আন্দোলন হবে।
ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, গণ অধিকার পরিষদও পিআরের পক্ষে।
দাবি: প্রচলিত পদ্ধতিতে জনমতের প্রতিফলন ঘটে না।
জামায়াত নেতার ভাষ্য: “সংসদীয় গণতন্ত্রে মানুষ দলকেই ভোট দেয়। তাই ‘কোয়ালিটি নির্বাচন’-এর জন্য পিআর প্রয়োজন।”
পিআর পদ্ধতিকে ‘নির্বাচন পেছানোর ফাঁদ’ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
নেতাদের ভাষ্য, এ ধরনের নতুন ইস্যু এনে নির্বাচনকালীন অচলাবস্থা তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন বলেন:
“নির্বাচন সময়মতোই হবে। এসব ইস্যুতে মানুষ বিভ্রান্ত হবে না।”
মহিউদ্দিন আহমেদ:
“এটি ক্ষমতার ভাগাভাগির প্রশ্ন। দলগুলো নিজেদের সুবিধামতো পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।”
সালাউদ্দিন বাবর (নয়া দিগন্ত):
“শেষ পর্যন্ত দলগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাবে। মানুষ নির্বাচন চায়।”
পিআর পদ্ধতি দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশসহ জার্মানি, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে বহুল ব্যবহৃত।
ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচনের সম্ভাবনা থাকলেও এই নির্বাচনী পদ্ধতির বিতর্ক নির্বাচনের পরিবেশকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা এখন দেখার বিষয়। সরকার বলছে নির্বাচন হবে সময়মতো, অথচ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না থাকলে অচলাবস্থার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |