আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৮ জুলাই ২০২৫
তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে শুরু হয়েছে দেশটির অন্যতম বৃহৎ বেসামরিক প্রতিরক্ষা মহড়া। বৃহস্পতিবার শহরের বেশিরভাগ এলাকায় বিমান হামলা সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়, বন্ধ রাখা হয় যান চলাচল এবং মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এটি তাইওয়ানের বার্ষিক সামরিক মহড়া ‘হান কুয়াং’-এর অংশ, যেখানে এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি তার যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ও নাগরিক প্রতিরক্ষা দক্ষতা যাচাই করে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ‘পুনরেকত্রীকরণ’-এর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় ২০২৪ সালে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে পরিচিত উইলিয়াম লাই তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর।
মহড়ায় শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা মহড়া পরিচালনা করা হচ্ছে—মার্কেট, মন্দির, সাবওয়ে, স্কুল ও হাইওয়ে থেকে জনগণকে সরিয়ে নেওয়ার অনুশীলন চলছে। চীনের সম্ভাব্য হামলার অনুকরণে করা এই মহড়ায় তাইওয়ানের ২২ হাজার সেনা সদস্য অংশ নিচ্ছেন, যা গত বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি।
চলতি সপ্তাহে শুরু হওয়া ‘Urban Resilience Exercise’-এর আওতায়, প্রতিদিন নির্ধারিত সময় অর্ধঘণ্টার জন্য জনগণকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে, যা অমান্য করলে জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে।
সকল দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ বন্ধ, রাস্তায় চলাচল বন্ধ, চালকদের সরাসরি আশ্রয়স্থলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তাইপের বাসিন্দা বেন (২৯), যিনি ফিনান্স পেশাজীবী, বলেন—
“চীন যদি সত্যিই হামলা করতে চাইত, অনেক আগেই করত। তবে মহড়া আমাদের প্রস্তুত করে।”
অন্যদিকে, কিছু নাগরিক এ মহড়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অফিসকর্মী শুয়ে (৪৮) বলেন—
“তাইওয়ান ও চীনের সামরিক শক্তির পার্থক্য বিশাল। এ ধরনের মহড়া পরিস্থিতি খুব একটা বদলাবে না।”
এবারের মহড়ায় শুধু সামরিক যুদ্ধ নয়, তথ্য বিকৃতি, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং স্নায়ুযুদ্ধমূলক গ্রে-জোন আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও প্রস্তুতির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সরবরাহকৃত হিমার্স মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র এবং তাইওয়ানে নির্মিত রকেট ব্যবহারের অনুশীলনও করা হচ্ছে।
মহড়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি:
✅ তাইচুং শহরে যুদ্ধকালীন দমন অভিযান
✅ সাবওয়ে স্টেশনে সন্ত্রাস মোকাবিলা অনুশীলন
✅ স্কুলকে ট্যাংক মেরামতের ঘাঁটিতে রূপান্তর
✅ আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসা মহড়া
এসব আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য—তাইওয়ানের নগর এলাকাগুলোর যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং সাধারণ নাগরিকদের সচেতনতা তৈরি করা।
তাইওয়ানের সরকারঘনিষ্ঠ জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা গবেষণা ইনস্টিটিউট (INDSR) এক জরিপে জানিয়েছে, ৬০ শতাংশের বেশি নাগরিক মনে করেন আগামী পাঁচ বছরে চীন হামলা চালাবে না।
তবে অর্ধেকের বেশি নাগরিক সেনাবাহিনীর সক্ষমতায় সম্পূর্ণ আস্থাশীল নন।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ২০২৭ সালের মধ্যেই তাইওয়ান আক্রমণের সক্ষমতা অর্জন করতে চাইছেন। তবে তাইওয়ান সরকার বলছে,
“আক্রমণের শঙ্কা থাকুক বা না থাকুক—প্রতিরক্ষা অনুশীলনই আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।”
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |