নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন
সাভার, ১২ জুলাই ২০২৫ — এমআইএসটি শিক্ষার্থী আসহাবুল ইয়ামিনকে গুলি করে হত্যা ও এপিসি (সাঁজোয়া যান) থেকে ছুড়ে ফেলার ঘটনায় অভিযুক্ত কনস্টেবল মাহাফুজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুলি করার কথা স্বীকার করেছেন মাহাফুজ। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
১৮ জুলাই সাভারের বাজার বাসস্ট্যান্ডে ‘জুলাই আন্দোলন’ ঘিরে আয়োজিত এক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশ ও আওয়ামী লীগপন্থী কর্মীরা যৌথভাবে হামলা চালায়।
তৎকালীন সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে এমআইএসটি–এর কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসহাবুল ইয়ামিনকে আটক করে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের (এপিসি) কাছে আনা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বুকের বাঁ পাশে কাছ থেকে গুলি করেন কনস্টেবল মাহাফুজ। গুলির স্প্লিন্টার ইয়ামিনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তাকে এপিসির ওপরে ছুড়ে ফেলে রাখা হয়, যেন সাধারণ মানুষের মনে ভয় সঞ্চার করা যায়।
তাকে আহত অবস্থায় রেখে সাঁজোয়া যানটি জনতার সামনে বারবার ঘুরিয়ে ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হয়।
পরে একজন পুলিশ সদস্যকে সাঁজোয়া যান থেকে বের হয়ে ইয়ামিনকে পায়ে গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তিনি গুলি না করে ইয়ামিনকে রাস্তায় টেনে নিয়ে রোড ডিভাইডারের পাশে ফেলে দেন।
স্থানীয়রা জানান, গুলিবিদ্ধ ইয়ামিন তখনও নিশ্বাস নিচ্ছিলেন।
তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত কনস্টেবল মাহাফুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তে তার বিরুদ্ধে আত্মস্বীকৃত জবানবন্দি পাওয়া গেছে বলে একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়।
নাম: আসহাবুল ইয়ামিন
পরিচয়: শিক্ষার্থী, এমআইএসটি (মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি)
বিভাগ: কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল
বর্ষ: চতুর্থ বর্ষ
মৃত্যু: ১৮ জুলাই ২০২৫, গুলিবিদ্ধ অবস্থায়, এনাম মেডিক্যালে
ইয়ামিন হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ দেশব্যাপী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
‘জুলাইযোদ্ধাদের’ জন্য সরকার আজীবন চিকিৎসাসেবা ও ভাতা চালুর ঘোষণাও দিয়েছে, যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর চেয়ে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতাকেই প্রধান দাবি হিসেবে তুলছে।
আসহাবুল ইয়ামিনের মৃত্যু শুধু একজন শিক্ষার্থীর শেষ অধ্যায় নয়—এটি একটি প্রজন্মের রাজনৈতিক জাগরণ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আত্মপ্রবঞ্চনার ভাঙন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এভাবে প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড নতুন এক পর্বের সূচনা করেছে—যেখানে প্রশ্ন উঠছে, “সংবিধান ও মানবাধিকার কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?”
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |