নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
১২ জুলাই ২০২৫, শনিবার
রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনের রাস্তায় জনসমক্ষে একজন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পাথর মেরে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সেই রক্তাক্ত ঘটনার প্রতিবাদে আজ শনিবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সরকারের প্রতি জবাবদিহিতার আহ্বান জানানোর উদ্দেশ্য রয়েছে।
ঢাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলবে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সময়সূচি কিছুটা ভিন্ন:
আইইউবি ও এনএসইউ (বসুন্ধরা): বেলা ১১:৩০ মিনিট
রামপুরা ব্রিজ, বসুন্ধরা গেট, উত্তরা বিএনএস, আশুলিয়া (খাগান): দুপুর ১২টা
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি: দুপুর ১২:৩০ মিনিট
সাউথইস্ট, উত্তরা ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি: দুপুর ১টা
মিরপুর-১০: বিকেল ৪টা
ঢাকার বাইরে:
চট্টগ্রাম নিউমার্কেট চত্বর: বিকেল ৩টা
সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার: সন্ধ্যা ৬টা
বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড, পোস্টার ও প্রতিবাদী স্লোগানসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। কেউ কেউ রক্তে লেখা ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন, যা এই আন্দোলনের গভীরতা ও ক্ষোভকে ফুটিয়ে তুলেছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে রাজপথ কখনো শান্ত ছিল না—বিশেষ করে যখন প্রশ্ন এসেছে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার। মিটফোর্ডে প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ডে যে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটিও সেই ধারাবাহিক আন্দোলনেরই এক আধুনিক রূপ।
বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে গণআন্দোলনের মাধ্যমে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের নিপীড়নের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় ছাত্র-জনতা। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, “এই জাতি আর কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না।”
তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে ছাত্ররা রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে নিহত হন নূর হোসেন ও অন্যান্যরা, যাদের রক্তেই রচিত হয় গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়।
যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে তরুণ প্রজন্ম শাহবাগে অবস্থান নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে। গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেছিলেন, “এটা একাত্তরের অসমাপ্ত যুদ্ধেরই অংশ।”
রাস্তায় অনিরাপদ পরিবহনের বিরুদ্ধে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেশব্যাপী সাড়া ফেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া মুহূর্তগুলো আন্দোলনকে আরও দ্রুত ছড়িয়ে দেয়।
এই যুগে আন্দোলন শুধু রাজপথেই সীমাবদ্ধ নয়। ফেসবুক, টিকটক ও এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মুহূর্তেই একত্রিত হতে পারে। মিটফোর্ডের ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সারাদেশের তরুণরা প্রতিবাদের জন্য প্রস্তুতি নেয়।
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং মানবাধিকারকর্মীরা বলেছেন, এই আন্দোলন আমাদের বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাহীনতার ইঙ্গিত দেয়। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, “বিচার না হলে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়বে—এটা রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত।”
মিটফোর্ডের নৃশংস হত্যাকাণ্ড একটি সামাজিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি, যার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ দাঁড়িয়ে গেছে। এই আন্দোলন শুধু ন্যায়বিচারের দাবি নয়—এটি দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি বার্তা: জনগণ এখন আর নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।
সংগৃহীত তথ্যসূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বিবিসি বাংলা, একাত্তর টেলিভিশন, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স
রিপোর্টিং ও গবেষণা: মানবাধিকার ডেস্ক | রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগ | ১২ জুলাই ২০২৫
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |