দেশে করোনা পরিস্থিতি আবারও আলোচনায় এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ১৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার (২২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত করোনা আপডেট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মোট ৪০৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৯টি নমুনায় করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়, যা ৪.৬৮ শতাংশ শনাক্ত হার নির্দেশ করে।
মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম বিভাগ এবং একজন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
এই পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০,৫১,৯৯৭ জন এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯,৫১৮ জনে।
স্মরণযোগ্য যে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে, ১৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়।
২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট, দুদিনে সর্বাধিক ২৬৪ জন করে করোনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন—যা এখনও পর্যন্ত এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে মৃত্যুর সংখ্যা ও শনাক্তের হার কম হলেও একে অবহেলা করা উচিত নয়।
ভাইরাসটির মিউটেশন, ঋতুবদল, জনসমাগম, এবং মাস্ক পরার অনীহা—সব মিলিয়ে মাঝে মাঝেই সংক্রমণের ‘স্পাইক’ দেখা যাচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“মৃত্যু আবার শুরু হওয়া মানে হলো—কম ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীও এখন আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও কোমর্বিড রোগীদের মধ্যে নতুন করে সংক্রমণ ছড়ালে মৃত্যুহার বেড়ে যেতে পারে।”
এখনই সময় স্বাস্থ্যবিধি নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার। হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, ভিড় এড়িয়ে চলা, এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করা—এই চর্চাগুলো আবারও চালু করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ করোনা নিয়ে অনেকটাই উদাসীন হয়ে পড়েছে। এর সুযোগে ভাইরাসটি আবার ‘পুনরুজ্জীবিত’ হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন,
“আমরা এখন চাই জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সচেতন থাকুক। সরকার এখনও লকডাউন বা বড় কোনো নিষেধাজ্ঞার পথে যাচ্ছে না, কিন্তু ব্যক্তিগত সুরক্ষা জরুরি।”
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কয়েক কোটির বেশি মানুষ করোনা টিকার অন্তত একটি ডোজ গ্রহণ করেছেন। তবে বুস্টার ডোজ গ্রহণের হার এখনো সন্তোষজনক নয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—যেসব ব্যক্তি এখনও বুস্টার ডোজ নেননি, তারা যেন দ্রুত তা গ্রহণ করেন, বিশেষ করে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী।
এদিকে, WHO এর মতে, নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলো কিছুটা টিকা-প্রতিরোধী হলেও বুস্টার ডোজ আক্রান্তের তীব্রতা কমাতে কার্যকর।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্সসহ বেশ কিছু দেশে ‘FLiRT’ এবং ‘KP’ নামে পরিচিত নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট ইতিমধ্যে শনাক্ত হয়েছে। এসব ভ্যারিয়েন্ট অধিক সংক্রমণযোগ্য এবং কিছু ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি উপসর্গ তৈরি করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে,
“করোনা পুরোপুরি চলে যায়নি। এটি এখনও গ্লোবাল পাবলিক হেলথ থ্রেট।”
করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদফতর কয়েকটি সুপারিশ করেছে:
উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে পরীক্ষা করান
মাস্ক ব্যবহার করুন, বিশেষ করে হাসপাতাল, বাজার, গণপরিবহনে
হাঁচি-কাশির সময় রুমাল/টিস্যু ব্যবহার করুন
প্রয়োজন ছাড়া গণজমায়েত এড়িয়ে চলুন
টিকার বুস্টার ডোজ গ্রহণ করুন
জ্বর-সর্দি থাকলে বাসায় বিশ্রাম ও আইসোলেশন মেনে চলুন
করোনাভাইরাস হয়তো আগের মতো ভয়ঙ্করভাবে আঘাত করছে না, তবে এটি এখনও একটি বিপদ। কম সংখ্যক সংক্রমণকে অবহেলা করলে তা আবার ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—বিশেষ করে দেশে যদি নতুন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা এখন ‘এন্ডেমিক’ রূপে রয়ে গেছে। তাই সংক্রমণ ও মৃত্যুর যেকোনো উত্থানকে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |