| বঙ্গাব্দ

ধর্ষণ মামলার বাদীর সঙ্গে গায়ক নোবেলের বিয়ের নির্দেশ দিল আদালত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-06-2025 ইং
  • 5609477 বার পঠিত
ধর্ষণ মামলার বাদীর সঙ্গে গায়ক নোবেলের বিয়ের নির্দেশ দিল আদালত
ছবির ক্যাপশন: নোবেলের বিয়ের নির্দেশ দিল আদালত

ধর্ষণ মামলার আসামি গায়ক নোবেলের সঙ্গে বাদীর বিয়ের নির্দেশ, আদালতের সিদ্ধান্তে নতুন মোড়

ঢাকা, ১৯ জুন ২০২৫
গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ধর্ষণ, নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় নতুন মোড় এসেছে। রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের এক সাবেক ছাত্রী যিনি মামলাটির বাদী, তার সঙ্গে নোবেলের বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। উভয়ের সম্মতিতে বিয়ে সম্পাদনের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

বুধবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে নোবেলের আইনজীবী একটি আবেদন করেন, যাতে বলা হয়, আসামি ও বাদী বর্তমানে পারস্পরিক সমঝোতায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে ইচ্ছুক। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কারা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার প্রেক্ষাপট

গত ১৯ মে গভীর রাতে রাজধানীর ডেমরা এলাকার স্টাফ কোয়ার্টার থেকে গায়ক নোবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ ছিল, ইডেন মহিলা কলেজের এক সাবেক ছাত্রীকে ডেমরার একটি বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করেছেন তিনি।

পরদিন, ২০ মে, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানায় পুলিশ, এবং আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে নোবেলকে জেলহাজতে পাঠান।

বাদী ও আসামির অতীত সম্পর্ক

২০১৮ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোবেল ও ইডেন কলেজের ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বেড়ে গেলে, ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর মোহাম্মদপুরে সাক্ষাতের পর ‘স্টুডিও দেখানোর’ কথা বলে নোবেল তাকে নিজের ডেমরার বাসায় নিয়ে যান।

সেই বাসাতেই ছাত্রীকে সাত মাস ধরে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। তার ফোন ভেঙে ফেলা হয়, মারধর করা হয়, এবং ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।

ভিডিও ভাইরাল ও উদ্ধার অভিযান

ঘটনার মোড় ঘোরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর, যেখানে দেখা যায় নোবেল একজন নারীকে সিঁড়ি দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে নিচ্ছেন। ওই ভিডিও দেখে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার তাকে চিনে ফেলে এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন।

পরে পুলিশ ১৯ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডেমরার সেই বাসায় অভিযান চালায়। ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়, তবে নোবেল পালিয়ে যান। প্রযুক্তির সহায়তায় রাত ২টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের আগমুহূর্তে নোবেল দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছিলেন। এর জন্য একটি মাইক্রোবাসও ভাড়া করা হয়েছিল।

মামলার অগ্রগতি ও আদালতের নির্দেশ

গায়ক নোবেলের আইনজীবী আদালতে উপস্থাপন করেন যে, “বাদী ও আসামির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ছিল। বর্তমানে উভয়েই সমঝোতায় পৌঁছেছেন এবং বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে ইচ্ছুক।”

এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক নাজমিন আক্তার বলেন, “যেহেতু উভয়ের সম্মতি রয়েছে, এবং বিষয়টি এখন বিচারাধীন, তাই কারা কর্তৃপক্ষ যেন এই বিয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতকে অবহিত করে।”

বিয়ের বিষয়টি আদালতের নজরে আনায় এই মামলার ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফির মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ যেখানে রয়েছে, সেখানে বাদী ও আসামির মধ্যকার সমঝোতা ও বিয়ের ইচ্ছা কীভাবে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোবেলের বিরুদ্ধে একাধিক বিতর্ক পূর্বেও ছিল। তবে এবার অভিযোগ ছিল আরও গুরুতর এবং স্পর্শকাতর। ধর্ষণ ও আটকে রাখার মতো ঘটনায় অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকে নোবেলকে নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল নেতিবাচক।

তবে বিয়ের মধ্য দিয়ে উভয়পক্ষের পারস্পরিক সমঝোতা আলোচনায় আসায় সামাজিক মাধ্যমে মতামতের বিভাজন তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন এটি বিচারের পথকে প্রভাবিত করবে না, আবার অনেকে মনে করছেন এটি দৃষ্টান্ত হয়ে যেতে পারে ধর্ষণ মামলার মামলাজট ও অপব্যবহারের নতুন অধ্যায়ে।

নোবেলের পেশাদার পরিচিতি

মাইনুল আহসান নোবেল প্রথম আলোচনায় আসেন ২০১৮ সালে, কলকাতার একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সংগীতভিত্তিক রিয়েলিটি শোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। তিনি ভারত ও বাংলাদেশে একাধিক চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন, যার মধ্যে মাদক, চুক্তিভঙ্গ ও ব্যক্তিগত আচরণগত বিতর্ক অন্যতম।


উপসংহার

গুরুতর অপরাধের আসামি হিসেবে আটক একজন তারকার সঙ্গে মামলার বাদীর বিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এটি শুধু আইনি নয়, সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও আলোচনার দাবি রাখে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এখন অপেক্ষা কারা কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকে। আরেকদিকে, আইন অনুযায়ী মামলার ভবিষ্যৎ গতি কী হয়—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency