রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলো গণ অধিকার পরিষদ। দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, “আওয়ামী লীগ যতদিন না বিচারাধীন অভিযোগে নির্দোষ প্রমাণিত হচ্ছে, ততদিন নির্বাহী আদেশে তাদের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা উচিত।” শুক্রবার (৯ মে) বিকেলে রাজধানীর পল্টন মোড়ে এক অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ কর’—এ স্লোগানে মুখর ছিল পল্টন মোড়। গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ব্যানার, পোস্টার ও স্লোগানে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তাদের দাবি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নুর বলেন, “এই দলটি বছরের পর বছর ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিরোধীদের দমন, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে দেশে ভীতির রাজত্ব কায়েম করেছে। আজ যদি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তবে এই দলের সব ধরনের কার্যক্রম নির্বাহী আদেশে বন্ধ করতে হবে।”
নুরুল হক নুর তাঁর বক্তব্যে গণ অধিকার পরিষদের উপদেষ্টা পরিষদের দিকেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদের অনেকেই এখন আওয়ামী লীগকে তোষণ করছে। তারা গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ভুলে গিয়ে সুবিধাবাদে লিপ্ত হয়েছে। শহীদ ও আহতদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।”
তিনি উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে বলেন, “আমরা এমন উপদেষ্টা পরিষদ চাই যারা গণমানুষের পক্ষে থাকবে, দলীয় আদর্শের প্রতি অনুগত থাকবে।”
গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, “অনেক দেরি হয়ে গেছে। গত ৯ মাসে যদি আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিতাম, তবে আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারত না। এখনো যদি আমরা পিছিয়ে যাই, তাহলে তারা ফিরে এসে বিপ্লবীদের উপরই চড়াও হবে।”
তিনি বলেন, “এই আওয়ামী লীগকে শিক্ষা দিতে হবে। না হলে এরা বারবার ফিরে এসে আন্দোলনকারীদের দমন করবে, বিচারপ্রার্থীদের কণ্ঠরোধ করবে।”
রাশেদ আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থান সফল করতে বিপ্লবীদের মধ্যে ঐক্য দরকার। কেউ যদি বিভক্তি সৃষ্টি করে, তবে তারাই হবে আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শত্রু।” তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।”
নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে না পারলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতেই থাকবে। তাদের দাবি, বিচারাধীন মামলাগুলোর ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত দলটির মিছিল, সমাবেশ, সভা ও নির্বাচনী কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।
নুরুল হক নুর বলেন, “গণতন্ত্র, বিচার এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বড় অন্তরায়। তাই এখনই সময় কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার।”
গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার ও প্রশাসন যদি এ দাবির প্রতি কর্ণপাত না করে, তবে আগামীতে সারাদেশজুড়ে গণআন্দোলন, অবরোধ ও হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |