কাশ্মিরে জঙ্গি হামলায় নিহত ২৬: শোকস্তব্ধ পশ্চিমবঙ্গ, পর্যটন শিল্পে বড় ধাক্কা
কাশ্মিরের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন পর্যটক। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা। হামলার নির্মমতা এতটাই ছিল যে, অনেকে স্বজন হারানোর বেদনায় স্তব্ধ, শোকাহত পরিবারগুলো যেন এখনও সেই দুঃসহ মুহূর্ত থেকে বের হতে পারছে না।
গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় পেহেলগামে এ হামলা ঘটে। জঙ্গিরা প্রথমে পর্যটকদের একটি গাড়িকে থামায় এবং জাতীয় পরিচয় জানতে চায়। হিন্দু না মুসলিম—এই প্রশ্নের ভিত্তিতে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
বিতান অধিকারী, আমেরিকায় কর্মরত ছিলেন, কলকাতার বাসিন্দা। ছুটি কাটাতে পরিবারসহ কাশ্মিরে এসেছিলেন। স্ত্রীর চোখের সামনেই প্রাণ হারান তিনি।
সমীর গুহ, সরকারি কর্মচারী, বেহালার বাসিন্দা। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও কন্যা। তিনিও এই হামলায় প্রাণ হারান।
মনীশ রঞ্জন মিশ্র, পুরুলিয়ার ঝালদার বাসিন্দা এবং হায়দ্রাবাদের আইবি অফিসের সেকশন অফিসার। সপরিবারে কাশ্মিরে ঘুরতে গিয়েছিলেন।
হামলা থেকে জীবিত ফিরে আসা মানুষদের চোখেমুখে এখনও আতঙ্ক। যারা আহত হয়েছেন, তাদের অনেকেই এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা চলছে, তবে পরিবারের সদস্যদের কাছে তা কিছুতেই সান্ত্বনার নয়। এই ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে।
আজ বুধবার সকালে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “কাশ্মিরের এই মর্মান্তিক সহিংসতায় আমাদের রাজ্যের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। দিল্লিতে আমাদের প্রশাসনিক টিম নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করছে। আজ রাত ৮:৩০-এ বিমান কলকাতা পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
কাশ্মিরের এই জঙ্গি হামলার পর, উপত্যকাজুড়ে পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হোটেল ও গেস্টহাউসগুলো খালি হতে শুরু করেছে, বুকিং বাতিল হচ্ছে লাগাতার। এটি জম্মু ও কাশ্মীরের পর্যটন শিল্পের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ, এই মৌসুম ছিল সবচেয়ে ব্যস্ত পর্যটনসময়।
এখন সবার প্রশ্ন—নিরাপত্তা কোথায়? পর্যটননির্ভর অর্থনীতির এই অঞ্চলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন?
এই মুহূর্তে গোটা দেশ স্তব্ধ, শোকাহত ও ক্ষুব্ধ। সবার কণ্ঠে একটাই দাবি—এ ধরনের হামলা বন্ধ হোক, নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |