সাও পাওলো, ১৭ এপ্রিল ২০২৫:
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়র ও ইনজুরি—এই দুটি শব্দ যেন রেল লাইনের মতো সমান্তরাল। একে অপরকে অনুসরণ করে চলতে ভালোবাসে। নেইমারের জীবনে ইনজুরির প্রতিশব্দ যেন তার ক্যারিয়ার। বিশ্বকাপে কিংবা ক্লাব ফুটবলে, প্রায় প্রতিটি বড় মুহূর্তে তাকে ইনজুরির শিকার হতে দেখা গেছে। এবারও এক বিশেষ দিন, শততম ম্যাচ খেলতে নেমেও তাকে ইনজুরির মুখোমুখি হতে হলো।
সান্তোসের ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নামার দিনেও ইনজুরি তাকে ছাড়েনি। ম্যাচটি অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর বিপক্ষে ছিল, যেখানে সান্তোস ২-০ গোলে জয়লাভ করে। তবে, খেলার ফলাফল পরবর্তী সময়ে গৌণ হয়ে যায়, কারণ নেইমার মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মাত্র ৩৪ মিনিটে। ম্যাচের প্রথমার্ধের আগে বাম পায়ের ঊরুর মাংসপেশির চোট নিয়ে তিনি মাঠে বসে পড়েন এবং সেখান থেকেই তাকে কার্টে করে বের করা হয়।
এদিনের দৃশ্য ছিল হৃদয়বিদারক। নেইমারকে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে দেখে তার কান্নায় ভেঙে পড়া দর্শকরা মর্মাহত হন। সান্তোসের ঘরোয়া মাঠে তার শততম ম্যাচে জয় হলেও, নেইমারের জন্য তা ছিল বড় এক আক্ষেপের দিন। খেলোয়াড় হিসেবে তার জন্য এমন একটি দিন হয়তো জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ছিল, কিন্তু চোটের কারণে তা দুর্ভাগ্যজনক হয়ে উঠেছে।
নেইমার মাঠ ছাড়ার সময় তার কান্না থামানো সম্ভব হয়নি, যদিও সান্তোসের সতীর্থরা তাকে সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বিশেষ করে, তার বাম পায়ের চোট, যা এই মুহূর্তে তার জন্য এক নতুন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাকে আরো বেশিদূর যেতে সহায়তা করছে না। ক্লাব সান্তোস এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে লিখেছে, “প্রিন্স! পুরো সান্তোস তোমার সঙ্গেই আছে।” এটি প্রমাণ করে যে, ক্লাবের সবাই নেইমারের পাশে দাঁড়িয়েছে এই কঠিন সময়ে।
নেইমারের ক্যারিয়ার নানা চোটের কারণে প্রায়ই দুঃখজনক হয়ে উঠেছে। মাঠে ফিরতে ফিরতে দীর্ঘদিন পর আবারও ইনজুরির কবলে পড়েছেন তিনি। এর আগে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তার চোট নিয়েই তিনি মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিলেন, এবং তার ক্লাব ক্যারিয়ারে বিভিন্ন সময়ে ম্যাচ মিস করার ঘটনা বেড়েছে। এমনকি গত কয়েক বছরে তার জন্য মৌসুমগুলো ভালোভাবে শেষ করার ঘটনা প্রায় বিলুপ্ত।
এখনো মনে রাখা হয়, ২০১৬-১৭ মৌসুম ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ সফল মৌসুম যেখানে তিনি এক সিজনে ৩৫ ম্যাচ খেলেছিলেন। এরপর থেকে প্রায়ই ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, নেইমারের ভবিষ্যত কী? পরবর্তী সময়ে তাকে কতোদিন মাঠে ফিরতে দেখা যাবে তা নিয়ে নানা অস্বস্তি রয়েছে। তবে, ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে সান্তোসের সতীর্থরা ও ক্লাবের সকল সদস্য তাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।
এমন একটি পরিস্থিতিতে, নেইমার হয়তো নিজের ক্যারিয়ার নিয়েও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। তবে তার অদম্য শক্তি ও প্রতিভার কারণে তিনি সবার আস্থার প্রতিদান দিতে সক্ষম হবেন এমন আশা করে তার ভক্তরা।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |