মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ: অপতথ্য প্রতিরোধে কাজ করা মার্কিন সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ
ওয়াশিংটন, ১৭ এপ্রিল:
যুক্তরাষ্ট্র সরকার অপতথ্য শনাক্ত ও প্রতিরোধে কাজ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এই সংস্থাটি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হতো এবং বিশ্বজুড়ে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য—বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের অপতথ্য কৌশল—চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতো।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এ ধরনের সংস্থার এখন আর কোনো প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি বরং সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছিল, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
রুবিও বলেন, “এই অফিসটি প্রতিবছর ৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ করতো, অথচ তারা মূলত এমন কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল যা জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। আমরা বিশ্বাস করি, এমন সংস্থার কোনো প্রয়োজন নেই, যা জনগণের কণ্ঠরোধ করতে চায়।”
প্রায় শুরু থেকেই এই সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক চলছিল। বিশেষ করে রিপাবলিকান নেতারা এই সংস্থাকে ‘একচেটিয়া মতবাদ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, এই সংস্থা রক্ষণশীল গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মতামতের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে এবং একাধিকবার তাদের কার্যক্রমকে ‘প্রোপাগান্ডা নিয়ন্ত্রণ’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংস্থাটি মূলত ডিজিনফরমেশন (অপতথ্য) শনাক্ত ও তার প্রতিক্রিয়ায় জনসচেতনতামূলক প্রতিবেদন তৈরি করতো। এতে রাশিয়া, চীন, ইরানসহ বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় ও অ-রাষ্ট্রীয় উৎসের ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্লেষণ করে জনসাধারণকে অবহিত করা হতো।
এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, তেমনি উঠেছে প্রশ্ন—তাহলে ভবিষ্যতে অপতথ্য মোকাবিলার দায়িত্ব কে নেবে? আধুনিক তথ্যযুদ্ধে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যে প্রতিযোগিতা চলছে, তাতে তথ্যের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার ও তথ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংস্থার কার্যক্রমে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও, তা ছিল একটি প্রাথমিক প্রয়াস—যা ভবিষ্যতে আরও নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হতে পারত।
এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক মহলেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তথ্য যুদ্ধে যেসব দেশ দীর্ঘদিন ধরে অপতথ্য ছড়িয়ে আসছে, তাদের বিরুদ্ধে এমন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিছু বিশেষজ্ঞ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কয়েকটি দেশের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, ডিজিনফরমেশনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্বজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |