| বঙ্গাব্দ

ধূমপান করলে কি অজু ভাঙে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-11-2026 ইং
  • 46418 বার পঠিত
ধূমপান করলে কি অজু ভাঙে
ছবির ক্যাপশন: ধূমপান করলে কি অজু ভাঙে? ইসলামি বিধান জেনে নিন

অজু করার পর বিড়ি-সিগারেট খেলে কি অজু ভেঙে যায়? ইসলাম কী বলে

দৈনন্দিন জীবনে অনেকেই অজু করার পর বিড়ি বা সিগারেট পান করেন। এ অবস্থায় নামাজ আদায় করা যাবে কি না, কিংবা ধূমপানের কারণে অজু নষ্ট হয়ে যায় কি না—এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই আসে। ইসলামি ফিকহের আলোকে বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।

ধূমপান করলে কি অজু ভেঙে যায়?

প্রচলিত হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, শুধু বিড়ি বা সিগারেট পান করার কারণে অজু ভেঙে যায় না। কারণ ধূমপান অজু ভঙ্গের স্বীকৃত কারণগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়।

হানাফি ফিকহে অজু ভঙ্গের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১. প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া।
২. মুখভর্তি বমি হওয়া।
৩. শরীরের কোনো স্থান থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে গড়িয়ে পড়া।
৪. এমনভাবে ঘুমানো, যাতে শরীরের নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
৫. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
৬. পাগল বা বেহুঁশ হয়ে যাওয়া।
৭. নামাজের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উচ্চস্বরে হাসা।

তাই কেউ অজু করার পর ধূমপান করলে শুধু এ কারণে তার অজু নষ্ট হবে না। তবে ধূমপানের পাশাপাশি অজু ভঙ্গের অন্য কোনো কারণ ঘটলে নতুন করে অজু করতে হবে।

অজু না ভাঙলেও ধূমপান কেন ক্ষতিকর ও নিন্দনীয়?

ধূমপানের কারণে অজু না ভাঙলেও এর অর্থ এই নয় যে ধূমপান ইসলামসম্মত বা অনুমোদিত। ধূমপান মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ছাড়া এতে অর্থের অপচয় হয় এবং আশপাশের মানুষও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতির শিকার হতে পারেন।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন—

وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ

অর্থ: ‘তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ো না।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১৯৫)

এই আয়াত থেকে নিজের জীবন ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকার শিক্ষা পাওয়া যায়।

সিগারেটের দুর্গন্ধ নিয়ে নামাজ ও মসজিদে যাওয়ার বিধান

ধূমপানের পর মুখ ও পোশাকে তীব্র গন্ধ থেকে যায়। এই দুর্গন্ধে মসজিদে থাকা অন্য মুসল্লিদের কষ্ট হতে পারে। তাই ধূমপানের গন্ধ দূর না করে মসজিদে যাওয়া উচিত নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلاَ يُؤْذِ جَارَهُ

অর্থ: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।’ (সহিহ বুখারি)

হাদিসে কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুন খেয়ে দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ এতে অন্য মুসল্লি ও ফেরেশতারা কষ্ট পান। একইভাবে ধূমপানের দুর্গন্ধ নিয়েও মসজিদে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

ধূমপানের পর নামাজ আদায় করবেন কীভাবে?

ধূমপানের কারণে অজু ভেঙে না গেলেও নামাজের আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত। দাঁত ব্রাশ বা মিসওয়াক করা, ভালোভাবে কুলি করা এবং পোশাকে গন্ধ থাকলে তা দূর করার ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তবে ধূমপানের কারণে নামাজ ছেড়ে দেওয়া বা জামাতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়। অজু অক্ষুণ্ণ থাকলে নামাজ আদায় করা যাবে। একই সঙ্গে ধূমপান ছাড়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

ধূমপায়ী মুসল্লিদের জন্য পরামর্শ

বিড়ি-সিগারেটের অভ্যাস একদিনে ছাড়তে না পারলেও তা থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা জরুরি। নিজের স্বাস্থ্য রক্ষা, অর্থের অপচয় বন্ধ এবং অন্যকে ধূমপানের ক্ষতি ও দুর্গন্ধ থেকে বাঁচাতে ধূমপান ত্যাগের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

মনে রাখতে হবে, শুধু ধূমপানের কারণে অজু ভাঙে না; কিন্তু অন্যের কষ্ট হয় এমন দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে যাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। অজু ও পবিত্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency