গঙ্গার পানি না আসলে ভারতীয় পণ্য ও ট্রানজিট বন্ধ করা হবে: নাহিদ ইসলাম
প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে এ দেশে কোনো ভারতীয় পণ্য ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন, যদি ভারতের পক্ষ থেকে গঙ্গার পানি স্বাভাবিক প্রবাহে বাংলাদেশে না আসে, তবে ভারতের সঙ্গে সব ধরনের করিডর, ট্রানজিট এবং ভারতীয় চ্যানেলের সম্প্রচার কঠোরভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানী ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় যুব দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জাতীয় যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেলের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
পানির ন্যায্য হিস্যা ও ফারাক্কা লংমার্চের হুংকার
ভারতকে উদ্দেশ্য করে মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, “যদি আমাদের নদ-নদীর স্বাভাবিক পানি না আসে, তবে ভারতীয় কোনো পণ্যও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবে না। পানি না আসলে কোনো করিডর হবে না, ট্রানজিটও দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের নদীতে পানি না থাকলে এ দেশে কোনো ভারতীয় চ্যানেল চলবে না।”
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “প্রয়োজন হলে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর পথ অনুসরণ করে আমরা বাংলাদেশের স্বার্থে আবারও ঐতিহাসিক লংমার্চের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুত আছি।”
মাতারবাড়ী চুক্তি ও সরকারের বৈদেশিক ঋণ নিয়ে প্রশ্ন
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈদেশিক ঋণ নীতি ও কৌশলগত চুক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন দেশের দুয়ারে দুয়ারে ঋণের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু বিশ্বমঞ্চে সরকারের ওপর কাঙ্ক্ষিত আস্থা না থাকায় কেউ ঋণ দিতে চাইছে না।
জাপানকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “জাপান অতীতেও আমাদের দেশের উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু সম্প্রতি মাতারবাড়ী প্রকল্প নিয়ে জাপানের সঙ্গে সরকার কী কী গোপন বা প্রকাশ্য চুক্তি করছে, তা অবিলম্বে জনগণের সামনে সম্পূর্ণ স্পষ্ট করতে হবে। কোনো ধরনের ধোঁয়াশা রেখে এবং জাতীয় সংসদে খোলামেলা আলোচনা ছাড়া আমরা বাংলাদেশে কোনো ধরনের জাতীয় চুক্তি পাস হতে দেব না। এই চুক্তির আড়ালে ভারতকে যদি কোনো ধরনের অবৈধ করিডর বা ট্রানজিটের সুযোগ দেওয়া হয়, তবে দেশের সাধারণ জনগণ তা যেকোনো মূল্যে রুখে দেবে।”
সংবিধান সংস্কার ও নির্বাচন প্রসঙ্গ
সংবিধান সংশোধন ও রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদের নাম উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “সংবিধান সংশোধন নিয়ে সালাউদ্দিন আহমেদ মতামত চেয়েছেন। কিন্তু সালাউদ্দিন সাহেবের কাছে আমাদের মতামত দেওয়ার কোনো প্রয়োজন বা সুযোগ নেই। উনি মতামত চাওয়ার কে? তাঁরা এখন বিভিন্ন পক্ষকে আলোচনার জন্য ডাকছেন, কিন্তু সংস্কার ও রূপরেক্ষার বিষয়ে রাজনৈতিক আলোচনা নির্বাচনের আগেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখানে নতুন করে কালক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন শুধু আলোচনার সময় শেষ, এখন হলো বাস্তবায়নের সময়। অবিলম্বে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করে গণভোটের ঐতিহাসিক গণরায়ের ভিত্তিতে দেশের সংবিধান সংস্কার করতে হবে। এর অন্যথা হলে দেশের তরুণ প্রজন্ম, ছাত্রসমাজ ও সংগ্রামী জনগণ তা কখনো মেনে নেবে না।
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দাবি
দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, শ্রমিকরা তাঁদের মৌলিক ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছে। অথচ সরকার ইতোমধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ঠিকই বাড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু প্রান্তিক শ্রমিক ও বেসরকারি খাতের কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়নি। এই বৈষম্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে পোশাকশ্রমিকসহ সব শ্রমজীবীর জন্য একটি সন্তোষজনক ও ন্যায্য মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।