৮ বছরের পুরনো মানহানি মামলায় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে দিল্লিতে সমন জারি, দরজায় নোটিশ টাঙাল পুলিশ
প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
প্রায় আট বছর আগে দায়ের হওয়া একটি স্পর্শকাতর ফৌজদারি মানহানির মামলায় ভারতের জনপ্রিয় ও আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর তথা ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর সমন ও জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছেন দিল্লির একটি আদালত। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিল্লির সাকেত আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। ধ্রুব রাঠি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় ও তাঁর গুরুগ্রামের বাসভবন তালাবদ্ধ থাকায় আদেশের কপি তাঁর দরজায় টাঙিয়ে বা সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন বিজ্ঞ আদালত।
বিকাশ সংকৃত্যায়ন ওরফে বিকাশ পান্ডে নামের এক ব্যক্তি ২০১৮ সালে ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে এই ফৌজদারি মানহানির মামলাটি দায়ের করেছিলেন। বিকাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আই সাপোর্ট নরেন্দ্র মোদি’ (I Support Narendra Modi) নামের একটি জনপ্রিয় পেজ পরিচালনা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ধ্রুব রাঠি তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে ‘বিজেপি আইটি সেল পার্ট ২’ শিরোনামে একটি বিস্ফোরক ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে বিকাশকে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আইটি সেলের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বিকাশের দাবি, ওই ভিডিওতে তাঁর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছিল যে, ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে ইন্টারনেটে অপপ্রচার ও কাদা ছোড়াছুড়ি চালাতে মহাবীর প্রসাদ নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ লাখ রুপি ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বিকাশ। তবে এই অভিযোগ শতভাগ মিথ্যা দাবি করে বিকাশ জানান, এতে সমাজে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, ধ্রুব রাঠির প্রকাশ করা ওই ভিডিওটি একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পুনরায় শেয়ার করেছিলেন দিল্লির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এ ঘটনায় কেজরিওয়ালকেও আইনি জটিলতায় পড়তে হয় এবং পরবর্তীতে তিনি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলা ও বর্তমান সচলতা
মামলাটি দায়েরের পর ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রথমবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছিল। তবে তিনি নিয়মিত জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায় অবস্থান করায় দীর্ঘদিন সেই সমন কার্যকর করা সম্ভব হয়নি এবং মামলার বিচারিক কার্যক্রম থমকে ছিল।
সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সরকারবিরোধী আন্দোলন ও প্রতিবাদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে ভারতে আসেন ধ্রুব রাঠি। বেঙ্গালুরুতে দলটির কর্মসূচিতে অংশ নিতে জার্মানি থেকে ভারতে পৌঁছান তিনি। পরবর্তীতে ১০ অক্টোবর দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে পৌঁছানোর আগেই তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
ধ্রুব রাঠির ভারতে আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই ৮ বছরের পুরনো মামলাটি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতে জরুরি আবেদন জানিয়ে জানান যে ধ্রুব বর্তমানে ভারতের ভূখণ্ডেই অবস্থান করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ অক্টোবর বিশেষ সমন জারির অনুমতি দেন সাকেত আদালত। তবে ১৭ অক্টোবর আদালতের এক কর্মী গুরুগ্রামে ধ্রুবর বাসায় সমন নিয়ে গেলে সেটি বন্ধ বা তালা ঝুলতে দেখেন। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার আদালতের পক্ষ থেকে নতুন করে জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করে আদেশের প্রতিলিপি দরজায় সাঁটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী ৩ নভেম্বর পরোয়ানা কার্যকরের সার্বিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবেন আদালত।
ভারতের রাজনৈতিক আন্দোলন ও ধ্রুব রাঠির অবস্থান
এদিকে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলনে নেমেছে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক জোট। এ দাবিতে রোববার দিল্লির ঐতিহ্যবাহী রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের বিশাল সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকি ‘গণ-অভিশংসন’ কর্মসূচি পালন করা হয়। আইনি জটিলতায় দেশের বাইরে অবস্থান করলেও ধ্রুব রাঠি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই আন্দোলনের পক্ষে নিজের স্পষ্ট সমর্থন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি ভারতবাসীকে দলমত-নির্বিশেষে গণতন্ত্র রক্ষায় রামলীলা ময়দানের সমাবেশে দলে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |