| বঙ্গাব্দ

বন্ধুর জিপিএ-৫ পাওয়া নিয়ে সন্দেহ, গোপনে পুনর্নিরীক্ষণে ফল এলো ‘ফেল’

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-10-2026 ইং
  • 65546 বার পঠিত
বন্ধুর জিপিএ-৫ পাওয়া নিয়ে সন্দেহ, গোপনে পুনর্নিরীক্ষণে ফল এলো ‘ফেল’
ছবির ক্যাপশন: গোপনে পুনর্নিরীক্ষণে ফল এলো ‘ফেল’

বন্ধুর অজান্তে খাতা পুনর্নিরীক্ষণে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর ‘ফেল’ করার রহস্য উদ্ঘাটন: শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর হুশিয়ারি

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া এক বন্ধুর ফলাফল নিয়ে তীব্র সন্দেহ থেকে তার অজান্তেই খাতা পুনর্নিরীক্ষণের (রি-এক্সামিনেশন) আবেদন করেছিল আরেক মেধাবী শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে সেই পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফলে দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া ওই শিক্ষার্থী আদতে পাসই করেনি, বরং সে ‘ফেল’ করেছে! খাতা মূল্যায়ন ও নম্বর কারচুপির এই নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত এবং অবিলম্বে মামলা দায়ের করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) গাজীপুরের বোর্ডবাজারে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নজিরবিহীন অনিয়মের এই গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন শিক্ষমন্ত্রী। তবে গোপনীয়তা রক্ষা ও তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী বা সংশ্লিষ্ট কোনো শিক্ষা বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের নাম এই মুহূর্তে প্রকাশ করেননি মন্ত্রী। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, পুলিশি ও প্রশাসনিক তদন্ত শেষ হলেই এই চক্রের পেছনের আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পাহাড়সমান আবেদন ও ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন অনুষ্ঠানের বক্তব্যে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার পরিসংখ্যান তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বছর দেশব্যাপী মোট ১৯ লাখ শিক্ষার্থী এসএসসির বিভিন্ন ধাপে অংশ নেয়, যার মধ্যে পাস করে ১২ লাখ পরীক্ষার্থী। ফলাফল প্রকাশের পর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ দেওয়া হলে শিক্ষা বোর্ডগুলোতে অবিশ্বাস্য রকমের বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে।

এ প্রসঙ্গে বিস্ময় প্রকাশ করে শিক্ষমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, “আমি এবার আইনত বললাম যাদের যাদের প্রশ্ন আছে বা সন্দেহ আছে, তারা খাতা রি-এক্সামিন করাতে পারে! ওরে আল্লাহ রে আল্লাহ! ১২ লক্ষ পাস করেছে, অথচ ১৩ লক্ষ খাতা দেখার জন্য দরখাস্ত পড়ে গেছে! বাকি ৬ লক্ষ করেনি, তা না হলে ১৯ লক্ষ খাতার সবগুলোই আবার দেখতে হতো!”

খাতা রি-চেকিংয়ের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী আরও জানান, “এই যে ১২ লক্ষ খাতা পুনরায় চেক করলাম, তার মধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ বা ফলাফল পরিবর্তন হয়ে গেছে! সংখ্যাটা ৪ হাজার ৫০০ নয়, একেবারে ৪৫ হাজার! এ ছাড়া ৫ হাজার ফেল করা শিক্ষার্থী নতুন করে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর পেছনের আসল কারণ কী? এই পরীক্ষকরা খাতা দেখেছেন কীভাবে? অনেক পরীক্ষক নিজে খাতা না দেখে অন্য কাউকে দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করিয়েছেন। তাঁরা কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও খামখেয়ালী হলে এমন গুরুতর অন্যায় করতে পারেন, ক্যান ইউ ইমাজিন?”

পরীক্ষকদের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কঠোর সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা এই ধরনের দুষ্টুমি ও খাতা মূল্যায়নে জালিয়াতি করেছে, তাদের প্রত্যেককে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। পরীক্ষক প্যানেল পরিবর্তন থেকে শুরু করে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং সামগ্রিক সিস্টেম ঢেলে সাজানোর কথা জানান তিনি।

বন্ধুর খাতা রি-চেক করার সেই ধুরন্ধর কায়দা ও মামলার নির্দেশ বন্ধুর অজান্তে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি বর্ণনা করতে গিয়ে শিক্ষমন্ত্রী বলেন, এক ধুরন্ধর ও চতুর ছাত্র লক্ষ্য করল তার এক বন্ধু জিপিএ-৫ পেয়েছে, অথচ সে নিশ্চিত যে ওই বন্ধু এত ভালো ফল পাওয়ার কোনো যোগ্যতাই রাখে না। সে সময় অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে কোনো ওটিপি বা ভেরিফিকেশন কোডের প্রয়োজন না থাকায় এই সুযোগ নেয় ওই ছাত্র। সে নিজের বন্ধুর ছদ্মবেশ বা তার পরিচয়ে খাতাটি রি-এক্সামিন করার জন্য বোর্ডে পাঠিয়ে দেয়।

এরপর ফলাফল যা এল, তাতে চক্ষু চড়কগাছ! এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “এখন রি-এক্সামিন হয়ে গেছে বন্ধুর খাতা। আর দেখা গেল বন্ধু আসলে ফেল করেছে! স্যার, চিন্তা করতে পারেন? খাতার ভেতরে জিরোকে বানিয়ে দেওয়া হয়েছে ৮৫, ১৩-কে বানিয়ে দেওয়া হয়েছে ৮৩, আর তাতেই সে হয়ে গেল জিপিএ-৫! তার মানে কী? ডাল মে কুছ কালা হ্যায়! এটা কারা করেছেন? এটা বের করা কত কঠিন! আজকেই আমি টেলিফোনে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছি। এর মূল হোতাদের খুঁজে বের করতেই হবে!”

বাউবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষা কার্যক্রমে কৃতিত্বপূর্ণ ও উজ্জ্বল ফল অর্জনকারী ৯ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির পক্ষে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। এ সময় তিনি বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency