| বঙ্গাব্দ

১৩ মাসেই কুরআনের হাফেজ হলেন নাঈম

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 12-10-2026 ইং
  • 55407 বার পঠিত
১৩ মাসেই কুরআনের হাফেজ হলেন নাঈম
ছবির ক্যাপশন: ১৩ মাসেই কুরআনের হাফেজ হলেন

মাত্র ১৩ মাসে ৩০ পারা কুরআন মুখস্থ করে হাফেজ হলো ১০ বছরের পিতৃহীন শিশু নাঈম

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

অদম্য ইচ্ছাশক্তি, মায়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবং শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে মাত্র ১৩ মাসে পবিত্র কুরআনুল কারিমের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ১০ বছর বয়সি পিতৃহীন শিশু মুহাম্মদ নাঈম আহমদ। গত রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় মাদ্রাসার শিক্ষকের কাছে পবিত্র কুরআনের শেষ সবক শোনানোর মাধ্যমে তার এই হিফজ সম্পন্ন হয়। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে হাফেজ হিসেবে ঘোষণা দেয়।

নাঈম যমুনা গ্রুপের সামাজিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত 'জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলাম মাদ্রাসা ও এতিমখানা'-র হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

প্রতিকূলতা জয় করে ১০ বছরের শিশুর বিরল সাফল্য

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার চতুল-সরুফৌদ গ্রামের প্রয়াত শফিক আহমদ ও মরিয়ম বেগম দম্পতির তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে নাঈম সবার ছোট। প্রায় সাত বছর আগে বাবা শফিক আহমদ মারা যাওয়ার পর চার সন্তানকে নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা ও চরম আর্থিক অনটনে পড়েন মা মরিয়ম বেগম। একপর্যায়ে সন্তানদের পড়াশোনা চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

এমন কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়ায় যমুনা গ্রুপ এবং নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের অধীনে জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলাম মাদ্রাসায় নাঈমের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়। এরপরই নিজের একাগ্রতা ও মেধা দিয়ে মাত্র ১৩ মাসের মাথায় পূর্ণাঙ্গ কুরআন হিফজ করে ফেলে এই শিশু। তার এই অর্জনে পরিবার, শিক্ষক ও পুরো কানাইঘাট এলাকায় ব্যাপক আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার, শিক্ষক ও হাফেজ নাঈমের প্রতিক্রিয়া

  • মা মরিয়ম বেগমের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া: ছেলে হাফেজ হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, “আমাদের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে হাফেজ বানানোর, কিন্তু সামর্থ্য ছিল না। যমুনা গ্রুপ সঠিক সময়ে পাশে না দাঁড়ালে আজ আমার ছেলের পক্ষে এই ভাগ্য অর্জন করা সম্ভব হতো না। আমি যমুনা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞ। দেশবাসীর কাছে আমার ছেলের জন্য দোয়া চাই, সে যেন বড় হয়ে ইসলাম ও দেশের খেদমত করতে পারে।”

  • শিক্ষক হাফেজ মাহবুবুল আম্বিয়ার বক্তব্য: জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলাম মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক বলেন, নাঈম অত্যন্ত মনোযোগী শিক্ষার্থী। এত অল্প বয়সে ও কম সময়ে ৩০ পারা হিফজ শেষ করা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।

  • শিশু নাঈমের অনুভূতি: ঐতিহাসিক এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত ১০ বছরের নাঈম বলে, “মায়ের দোয়া ও ওস্তাদদের সহযোগিতায় আমি ১৩ মাসে হিফজ সম্পন্ন করেছি। সবাই দোয়া করবেন যেন ভবিষ্যতে বড় আলেম হয়ে দেশ ও ইসলামের সেবা করতে পারি।”

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নাঈমের এই অনন্য অর্জনকে মহান আল্লাহর মহান নিয়ামত আখ্যা দিয়ে তার উজ্জ্বল ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency